দেশকে ভয়ংকর দুঃস্বপ্নের দিকে নিয়ে যাচ্ছে সরকার: রিজভী

সময় ট্রিবিউন | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:০৫

সংগৃহীত

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে ভয়ংকর দুঃস্বপ্নের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আর তারা প্রধানমন্ত্রীকে বলছেন ব্র্যান্ড! কিন্তু তিনি কিসের ব্র্যান্ড সেটাতো বলেননি। আসলে প্রধানমন্ত্রী ভোট ডাকাতির ব্র্যান্ড। গুম খুনের ব্র্যান্ড। দেশের সংকট নিরসনে বর্তমান সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন একমাত্র পথ বলে মন্তব্য করেন রিজভী।

বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলার মাওলানা আকরাম খাঁ হলে এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন এবং জনআকাঙ্ক্ষা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ‘জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম ৭১‘ কেন্দ্রীয় কমিটি। সংগঠনের সভাপতি ঢালী আমিনুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, খোন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলু, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী রাহেলা আক্তার রঞ্জু প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশে একটা স্বচ্ছ নির্বাচন হবে এটাই হচ্ছে জনআকাঙ্ক্ষা। জনগণ যাকে ইচ্ছা ভোট দিবে। কারণ জনগণ হচ্ছে দেশের মালিক। কিন্তু এটা তো সরকার ভুলে গেছে। তারা তো আবারও কে এম নূরুল হুদার মতো কাউকে নির্বাচন কমিশনার বানাবে। তা ছাড়া কাউকে নির্বাচন কমিশন বানাবে না। আজকে ডাকাতির নির্বাচন চান প্রধানমন্ত্রী। সেই নির্বাচন বৈধতা দান করেন তার মন্ত্রী এমপি আর সাঙ্গপাঙ্গরা। সুতরাং নিরপেক্ষ নির্বাচন কেমনে হবে?

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের পত্রিকা ও টিভিতে শুধু একজনেরই খবর। তিনি আজ প্রধানমন্ত্রী নন। তিনি এখন সম্রাজ্ঞী, রাণী। এভাবে কোনো গণতান্ত্রিক দেশে প্রধানমন্ত্রী বা কারো এমন প্রচারণা হয় বলে জানা নেই! আজকে তিনি সুলতানা রাজিয়া সেজেছেন। বাস্তবে তিনি মহারাণী। সেভাবেই তার জন্মদিন পালন করলেন। এমনকি সুশীল বলে পরিচিত কিছু পত্রিকার কাভার পৃষ্ঠা জুড়ে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ছেপেছে।

রিজভী বলেন, বাংলাদেশ থেকে ১১ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেলো সেটা নিয়ে তো কথা বলে না। সেই টাকা দিয়ে মালয়েশিয়া, কানাডার বেগম পল্লী কেনা হচ্ছে। দুবাইয়ে, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রে ও যুক্তরাজ্যে বিলাসবহুল বাংলো কেনা হচ্ছে। কারণ এ দেশে যদি কোনো কিছু ঘটে তাহলে তারা আরব্য রজনীর আলিফ লায়লার মতো সুখে শান্তিতে বিদেশে বসবাস করতে পারবেন। এটাই হচ্ছে তাদের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, দেশে একদিকে শেখ হাসিনার জন্মদিনের জৌলুস চলছে। অন্যদিকে দেশে নারীর ক্ষমতায়ন হ্রাস পেয়েছে। ইতিহাসে কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার কথাও লেখা আছে। মীরজাফরের নামও লেখা আছে। আজকে ওবায়দুল কাদের বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নাকি ব্র্যান্ড? তো প্রধানমন্ত্রী কিসের ব্র্যান্ড? তিনি তো টাকা পাচার করার ব্র্যান্ড, সাহেদ-সাবরিনার উত্থান আর গুম খুনের ব্র্যান্ড? তিনি তো গণতন্ত্র হত্যাকারী ব্র্যান্ড। দিনের ভোট নিশিরাতে করার ব্র্যান্ড। এটাতো ওবায়দুল কাদেরের বলা উচিত ছিলো। তারা সেটা বলেননি। প্রধানমন্ত্রী তো দেশকে দুঃস্বপ্নের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আরও থাকলে দেশের মানুষের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নের দিকে ধাবিত হবে। আর তারা বলছেন স্বপ্নের ঠিকানায় নিয়ে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী।

রিজভী বলেন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হলে গ্রহণযোগ্য সরকার থাকতে হবে। সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে যে নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় নির্বাচন কমিশন হবে সেই কমিশনের অধীনে দেশের মানুষের কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন হবে।

অন্য বক্তারা বলেন, আজকে পুনরায় সার্চ কমিটির নামে নিজেদের অনুগতদের দিয়ে তথা কথিত নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের পায়তারা করছে। খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ছাড়া নির্বাচনে যাওয়া হবে অনর্থক। সেইসাথে আন্দোলন সংগ্রামে নির্যাতিত নেতাকর্মীদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের ব্যবস্থা করা উচিত। তাদের খোঁজ খবর রাখতে হবে। আন্দোলন সফল করার মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।

মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, সার্বজনীন ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার জন্য নয়। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে আন্দোলনে নামতে হবে। তবেই জনআকাঙাক্ষার বাংলাদেশ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। বর্তমান সরকার দেশের সকল সংস্কৃতি বিনষ্ট করেছে। আওয়ামী লীগের চরিত্রের সাথে না মিললে কারো রেহাই নেই। তা না হলে, সম্রাট, পাপিয়া বা জিকে শামীমকে জেলে কেনো? কারণ ভাগাভাগি আওয়ামী লীগের সাথে বনাবনি হয়নি। আজকে আওয়ামী লীগের মধ্যে গৃহবিবাদ শুরু হয়েছে।

আবদুস সালাম আজাদ বলেন, এই সরকার ভোট, গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হেনেছে। আজকে নব্য বাকশাল কায়েম করে একদলীয় শাসন চালাচ্ছে সরকার। আসলে তারা জনগণের সরকার নয়। তাদের অধীনে নির্বাচনে যাওয়া যায় না। যে যত কথা বলুক, জনগণের দুশমন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ছাড়া দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


  1. ৭ নভেম্বর পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা : বিজিএমইএ
    ৭ নভেম্বর পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা : বিজিএমইএ
  1. বাংলাদেশ আজ কোন পথে : মব সন্ত্রাস, অর্থনৈতিক ধস এবং শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের অপরিহার্যতা
    বাংলাদেশ আজ কোন পথে : মব সন্ত্রাস, অর্থনৈতিক ধস এবং শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের অপরিহার্যতা
  1. যুদ্ধের প্রভাবে দ্রব্যমূল্য বাড়তে পারে ২৩ শতাংশ : বিশ্বব্যাংক
    যুদ্ধের প্রভাবে দ্রব্যমূল্য বাড়তে পারে ২৩ শতাংশ : বিশ্বব্যাংক
  1. ছয় মাসের মধ্যে তেলের দাম সর্বোচ্চ
    ছয় মাসের মধ্যে তেলের দাম সর্বোচ্চ
  1. ঢাকা থেকে সৌদিগামী ১০০ ফ্লাইট বাতিল : ভোগান্তিতে প্রায় ১৬ হাজার যাত্রী
    ঢাকা থেকে সৌদিগামী ১০০ ফ্লাইট বাতিল : ভোগান্তিতে প্রায় ১৬ হাজার যাত্রী
  1. দেশ ধ্বংসের কারিগর জুলাই আন্দোলন : শিল্পীদের ভূমিকা ও তালিকা
    দেশ ধ্বংসের কারিগর জুলাই আন্দোলন : শিল্পীদের ভূমিকা ও তালিকা
  1. ব্যাংকিং ব্যবস্থার মোট তহবিলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থ নেই : গভর্নর
    ব্যাংকিং ব্যবস্থার মোট তহবিলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থ নেই : গভর্নর
  1. নেত্রী মুক্তি পাক, সেদিন ফুল নেব
    নেত্রী মুক্তি পাক, সেদিন ফুল নেব
  1. ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে নতুন চার্জ, বাড়বে ব্যয়
    ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে নতুন চার্জ, বাড়বে ব্যয়
  1. সুনামগঞ্জে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্য পূরণ না হওয়ার শঙ্কা
    সুনামগঞ্জে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্য পূরণ না হওয়ার শঙ্কা