দেশে ১ লাখ কোটিপতি: বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন

সময় ট্রিবিউন | ১২ অক্টোবর ২০২১ ২১:৪২ আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২১ ০৭:৫৮

-ফাইল ছবি

অতিমারি করোনাভাইরাসের মধ্যেও দেশে কোটিপতির সংখ্যা বেড়ে ৯৯ হাজার ৯১৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

২০২০ সালের জুন শেষে এই সংখ্যা ছিল ৮৬ হাজার ৩৭ জন। এক বছরের ব্যবধানে দেশের ব্যাংকগুলোতে কোটিপতি গ্রাহক বেড়েছে ১৩ হাজার ৮৮১ জন। শতকরা হিসাবে কোটিপতি বেড়েছে ১৬ ভাগ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এই চিত্র উঠে এসেছে।

এ ব্যাপারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর দেশ থেকে কোটি কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। এটা বন্ধ করা গেলে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা আরও বাড়ত। তারপরও এই অর্থ পাচার না হয়ে ব্যাংকে জমা হচ্ছে এটা খুবই আশার কথা।

দেশে এক দিকে দারিদ্র্য বাড়ছে অন্য দিকে বাড়ছে কোটিপতির সংখ্যা। কোটিপতির সংখ্যা বেড়ে জনগণের মধ্যে আয়ের বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে। এটা অশুভ লক্ষণ।

মির্জা আজিজ আরও বলেন, কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বাড়াটা যেমন ইতিবাচক তেমনি আয়ের বৈষম্য বেড়ে যাওয়াটা একটা নেতিবাচক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে , ২০২১ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ব্যাংকখাতে পাঁচ হাজার ৬৪৬টি কোটিপতি ব্যাংক হিসাব বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কোটিপতি হিসাবধারী বেড়েছিল মাত্র ৩৮২ জন। জানুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংকে কোটিপতি হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ৯৩ হাজার ৮৯০ জন। মার্চ শেষে কোটিপতি হিসাবধারী বেড়ে ৯৪ হাজার ২৭২ জনে। জুন শেষে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯৯ হাজার ৯১৮ জন।

প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ছিল পাঁচ জন। ১৯৭৫ সালে এ সংখ্যা বেড়ে হয় ৪৭। ১৯৮০ সালে কোটিপতি ছিলেন ৯৮ জন। ১৯৯০ সালে ৯৪৩। ১৯৯৬ সালে দুই হাজার ৫৯৪ জন। ২০০১ সালে পাঁচ হাজার ১৬২ জন। ২০০৬ সালে আট হাজার ৮৮৭। ২০০৮ সালে ১৯ হাজার ১৬৩ জন। ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে কোটিপতির সংখ্যা ছিলো ৭৫ হাজার ৫৬৩ জন। ২০২০ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে দেশে কোটিপতি আমানতকারী বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩ হাজার ৮৯০ জন। সর্বশেষ চলতি ২০২১ সালের জুন শেষে দেশে কোটিপতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৯ হাজার ৯১৮ জন।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top