বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০১:১০ পূর্বাহ্ন

এটাই শেখ হাসিনার নতুন মডেল ছাত্রলীগ

এটাই শেখ হাসিনার নতুন মডেল ছাত্রলীগ

মাহমুদ আবদুল্লাহ বিন মুন্সি,
উপমহাদেশের ক্যারিশমেটিক নেতা দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ পর্যালোচনায় গঠিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব, সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী পরিষদের দায়িত্ব দুই মাস অতিবাহিত হয়েছে।
নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের পর থেকেই বেশ আলোচিত ছিল এই কমিটি। আকাশসম প্রত্যাশাও ছিল এই তরুণ তুর্কীদের নিয়ে। দায়িত্ব নেওয়ার পর শীর্ষ দুই নেতাও অসংখ্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার মধ্যে প্রধানতম ছিল ছাত্রলীগের রাজনীতিতে ইতিবাচকতাকে প্রতিষ্ঠা করা।
একটি ব্যাপার স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, এখন সব জায়গায় ইতিবাচক কাজের একটি উৎসব শুরু হয়েছে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে ভাল কাজ করার চমৎকার এক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
আবার কিছু মানুষ এই কাজগুলোকে শো-অফ বলেও আখ্যায়িত করছেন। এইখানে সহজ একটা থিউরি আছে। ধরুন, সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাছে আলোচিত হওয়ার জন্য সারা বাংলাদেশে ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা একটি করে ভাল কাজ করলো। এইভাবে যদি ১০০ জন কর্মীও (যদিও সংখ্যাটা অনেক বেশি) ইতিবাচক কাজ করে তার বদৌলতে প্রায় ১০০০ জন সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছে।
এখন প্রতিযোগিতাটি যদি শো-অফেরও হয়, আমার কাছে মনে হয় এটিই হওয়া উচিত। কেননা, প্রতিক্রিয়াশীল সংগঠনের মত নেতিবাচক কাজের মাধ্যমে আলোচিত হওয়ার প্রবণতার চেয়ে ইতিবাচক কাজের মাধ্যমে শো-অফ করে আলোচিত হওয়া ঢের ভাল।
কারণ গণমানুষ এর দ্বারা অনেক উপকৃত হচ্ছে।
এক. দায়িত্বে নেওয়ার পরপরই বিশ্ব সাক্ষরতা দিবসে ছাত্রলীগ কর্মসূচি হাতে নিয়েছিল। পুরো বাংলাদেশকে নিরক্ষরমুক্ত করার লক্ষ্যে বেশ কিছু কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের নেতাকর্মীদেরকে নিজ নিজ ইউনিটে নিরক্ষরতা দূরীকরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কেন্দ্র থেকে। তারই ধারাবাহিকতায় পুরো দেশজুড়ে ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতাকর্মী এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছেন। অস্থায়ী পাঠশালা তৈরি থেকে শুরু করে প্রত্যেকেই যার যার জায়গা থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও অমর একুশে হল থেকে শুরু করে বিভিন্ন হলে নেওয়া হয়েছে হল কর্মচারীদের নিরক্ষরমুক্ত করার উদ্যোগ 
ক্যান্টিন বয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণীর কর্মচারীরা অংশ নিচ্ছেন এই কার্যক্রমে। সেইসাথে রিক্সাওয়ালা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার মানুষজনও এই কার্যক্রমের আওতায় রয়েছেন।
দুই. ছাত্ররাজনীতিতে ইতিবাচক কার্যক্রম এর উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সমর্থ হয়েছে বর্তমান নির্বাহী সংসদ। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ছাত্ররাজনীতিতে ভাল ও ইতিবাচক কাজের চর্চা বেশ আগে থেকেই করতেন। অসহায় মানুষের পাশে সর্বদা ছিলেন তিনি। বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তে ছুটে বেরিয়েছেন সাহায্যপ্রার্থী মানুষকে সহায়তা করার জন্য। তখন কিছুসংখ্যক মানুষ কাজগুলোকে এপ্রিশিয়েট না করে বিভিন্ন সমালোচনায় লিপ্ত থাকতো।
স্রেফ লোক দেখানো বলে উড়িয়ে দিতো। অনেকে এটাও বলা বলি করতো নেতা হওয়ার জন্যই কেবল তিনি এই ভাল কাজগুলো করেন! এমনকি পরবর্তীতে নেতৃত্ব পাওয়ার পর পূর্বের কাজগুলোর ধারাবাহিকতা থাকবেনা বলেও মত ছিল অনেকেরই।
কিন্তু! আমরা দেখতে পেলাম তার ঠিক উল্টো।
সমালোচকদের গালে চপোটাঘাত করে নেতৃত্বে আসার পর ভাল ও ইতিবাচক কাজ নিজে করা এবং কর্মীদের করতে উৎসাহ প্রদান আগের চেয়ে ঢের বেশি পরিসরে করা শুরু করেছেন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক। নিজের জন্মদিনে কোন কেক কাটা বা আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের বদৌলতে তিনি তার অনুসারীদের নির্দেশনা দিয়েছিলেন একটি করে ভাল কাজ করার। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে সারা বাংলাদেশে একযোগে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ভাল কাজের মহড়া দিয়েছেন।
অসুস্থ রোগীকে সহায়তা করা, পথশিশুদের সহায়তা, বাস্তুহারা মানুষের সাহায্য করা, ভঙ্গুর রাস্তা মেরামত, গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ প্রদান, ত্রুটিপূর্ণ সাকো মেরামত, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে জেব্রা ক্রসিং, ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বিভিন্ন এলাকার বর্জ্য অপসারণ, গ্রন্থাগার নির্মাণ, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প সহ অসংখ্য জনমুখী কার্যক্রম দেখা গিয়েছে দেশজুড়ে। তার কয়েকদিন পরই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনেও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের এই ধরণের ইতিবাচক কার্যক্রমগুলো অব্যাহত ছিল। অন্যান্য সময়ে যেখানে জাজ জমক পূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করা হতো।
সেই অর্থ এখন ব্যয় হচ্ছে সাধারণ মানুষের কল্যাণে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ব্যক্তিগতভাবেও অসংখ্য অসহায় মানুষের সাহায্য করেছেন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন জটিল রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিজে নিয়েছেন।
দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ছুটে আসা রোগীদের খোজখবর নিতে স্বশরীরে উপস্থিত থেকেছেন হাসপাতালে। যেকোন শ্রেণী পেশার মানুষ তাই তাদের বিপদে শরণাপন্ন হচ্ছে সাধারণ সম্পাদকের।
তিন. চলমান ভর্তি পরীক্ষার মৌসুমে আমরা দেখতে পেয়েছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের অনন্য উদ্যোগ। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজে উপস্থিত থেকে ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় যে কার্যক্রম নিয়েছেন তা বেশ প্রশংসিত হয়েছে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষদের কাছে।
শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য তথ্য কেন্দ্র, ‘জয় বাংলা বাইক সার্ভিস’, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, শিক্ষা উপকরণ ও অস্থায়ী মেডিকেল টিমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষার্থীদেরকে সহায়তা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিভিন্ন হল ইউনিট ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম সমাবর্তনকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের উদ্যোগে আয়োজিত কনভোকেশন কনসার্ট ও তার পরবর্তীতে লোকসঙ্গীত উৎসব-২০১৮ গত কয়েক দশকে ঢাবিতে অনুষ্ঠিত হওয়া সকল বিনোদনধর্মী প্রোগ্রামকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে সমর্থ হয়েছে দুটি প্রোগ্রামটি। এর বাইরেও নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটটি।
চার. বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন নেতাকর্মীদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য বিলাসিতাকে উপেক্ষা করে থাকছেন নিজ হলের সাদামাটা কক্ষে। বিভিন্ন ইউনিটকে শক্তিশালী করতে কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
বিভিন্ন ইউনিটে সাংগঠনিক সফরও করেছেন। প্রটোকল বাদ দিয়ে স্ব স্ব জায়গা থেকে ইতিবাচক কাজ করতে নির্দেশনা দিচ্ছেন কর্মীদের। আরেকটি ব্যাপার লক্ষণীয় যে, এই ইতিবাচক কাজের মহোৎসবের পাশাপাশি ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী যারা নেতিবাচক কাজের শিরোনাম হচ্ছে তাদের ব্যাপারে বর্তমান ছাত্রলীগ বেশ কঠোর অবস্থান নিচ্ছে।দোষী প্রমাণিতদেরকে বহিষ্কারসহ বিভিন্ন শাস্তির আওফায় আনা হচ্ছে

তাই নতুন কমিটি আসার পরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নেতিবাচক কাজের শিরোনাম হয়নি বললেই চলে। তারই ধারাবাহিকতায় জনমনেও ছাত্রলীগ আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে। সর্বোপরি, দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার আস্থার প্রতিদান দিতে নিরলসভাবে কাজ করছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নির্বাহী সংসদ। ভাল কাজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌছে নৌকার ভোট বাড়াতে বদ্ধ পরিকর বর্তমান কমিটি।
“যা কিছু সত্য, সুন্দর ও ইতিবাচক তার সাথেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগ” এই স্লোগানটি ব্যবহারিকভাবে পরিপূর্ণতা দানের দৃঢ়চেতা মনোভাব নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে উপমহাদেশের সর্বপ্রাচীন ও সর্ববৃহৎ ছাত্রসংগঠনটি।
লেখকঃ মাহমুদ আবদুল্লাহ বিন মুন্সি সাবেক সভাপতি, ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি (DUDS) সাবেক স্কুল ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগ



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

China Scholarship bd

Somoy-Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis. © All rights reserved  2018 somoytribune.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com