বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০১:২৬ পূর্বাহ্ন

অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেনা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি

অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেনা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি

এক সময়ের রাজপথের লড়াকু সৈনিক দিনাজপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি দবিরুল ইসলাম (৫০) ব্রেইন স্ট্রোক করে অর্থের অভাবে চিকিৎসা নিতে না পেরে মানবেতর দিন যাপন করছেন।

২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর ব্রেইন স্ট্রোক করার পর থেকে ঠিকমতো কথা বলতে পারেন না তিনি। অকেজো হয়ে পড়েছে ডান হাতটি। ডান পায়েও শক্তি পান না তিনি। তার পাশাপাশি বাড়িতে প্যারালাইসিসে পড়ে আছেন বৃদ্ধ বাবা তোফাজ্জল হোসেন (৮৫)। মা মাহামুদা বেগমও (৭৫) বয়সের ভারে শয্যাশায়ী।

বর্তমানে বাড়ির পাশে একটি দোকান ঘরে মাথার উপর বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি নিয়ে সময় কাটছে দবিরুলের। এ অবস্থায় তাদের সংসার চলছে সাব রেজিস্ট্রি অফিসে মাস্টাররোলে চাকরি করা স্ত্রী রুনা লায়লার উপার্জিত অর্থ দিয়ে।

ছাত্রলীগের সাবেক এই সভাপতি এক সময় অসংখ্য অসহায় মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়িয়েছেন। অথচ আজ তার খোঁজ নেয় না কেউ। লোক লজ্জায় কারও কাছে বলতে পারেন না নিজের অসহায়ত্বের কথা। অর্থের অভাবে না পারছেন বাবা-মায়ের চিকিৎসা করাতে, না পারছেন নিজের।

দিনাজপুর শহরের ৯নং ওয়ার্ডের খেড়পট্রির বাসিন্দা দবিরুল ইসলাম ১৯৮৮ ও ১৯৯১ সালে পরপর দুই বার নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, দিনাজপুর জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ সালে দিনাজপুর জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ১৯৯৮ সালের ১৩ অক্টোবর সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্বাহী সদস্য ছিলেন। ২০০৫ সালে জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ কমিটির যুগ্ম আহ্বায়কেরও দায়িত্ব পান। বর্তমানে দিনাজপুর শহর আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য তিনি। অথচ, অর্থের অভাবে এই সৈনিক দিনাজপুরে চিকিৎসক দেখানোর পর যে ওষুধ কিনে খাবেন এ অবস্থাও তার নেই।

jagonews

১৯৯০ সালে এরশাদ বিরোধী গণআন্দোলনে রাজপথের সৈনিক দবিরুল ইসলাম। ৯১ সালে ভোট ও ভাতের অধিকার, দিনাজপুর সরকারি কলেজে ছাত্রলীগ নেতা অজয় হত্যার প্রতিবাদ এবং ২০০১ সালে বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে আন্দোলন করতে গিয়ে একাধিকবার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের নেতাকর্মীদের হাতে। ৯৫ সালে ইয়াসমিন আন্দোলনে পুলিশের নির্যাতনের শিকার হন তিনি।

বাড়ি থেকে বেরিয়ে অফিসে আসার পথে প্রতিদিন দেখা হয় এই সংগ্রামী মানুষটির সঙ্গে। বেশ কয়েকদিন জিজ্ঞাসা করেছি চিকিৎসা ও পরিবার চলছে কীভাবে? কিন্তু এড়িয়ে গেছেন তিনি।

বুধবার নিরুপায় হয়ে দবিরুর বললেন তার কষ্টের কথাগুলো। বললেন, আর পারছি না। এবার হয়তো পরিবার পরিজন নিয়ে রাস্তায় গিয়ে দাঁড়াতে হবে। জানালেন তিনি প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে একটি আবেদন করেছেন। আবেদনে দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মো. মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল ইমাম চৌধুরী সুপারিশ করেছেন। কিন্তু র্দীঘদিনেও কোনো সাড়া মেলেনি। আবেদনটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর হাতেও দিয়েছেন। তাতের কোনো সাড়া পাননি। তিনি বলেন, মন্ত্রী ও হুইপ কিছু সহযোগিতা করেছেন। যা ব্যয়বহুল চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট নয়।

২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর থেকে দবিরুল ইসলাম অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন। বর্তমানে তিনি দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক মাহাবুবুল আলমের চিকিৎসায় রয়েছেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন ০১৭৩৫৮২৩২৩৬ নম্বরে



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

China Scholarship bd

Somoy-Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis. © All rights reserved  2018 somoytribune.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com