বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০১:০৯ পূর্বাহ্ন

গণতন্ত্রকে পাত্তাই দিলেন না লায়ন নেতা

গণতন্ত্রকে পাত্তাই দিলেন না লায়ন নেতা

 

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম একটি গণতান্ত্রিক দেশ। যেখানে গণতন্ত্রের মূল ও প্রধান উপাদান সংখ্যাগরিষ্ঠতা, সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে উপেক্ষা করে লায়ন্স ক্লাবের সহযোগিতা সংগঠন লিও ক্লাবের কমিটি ঘোষণা করলেন লায়ন জেলা ৩১৫এ১ এর জেলা গভর্নর লায়ন এম. নুরুল হুদা। খবর নিয়ে জানা যায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে অক্টোবর সেবা সপ্তাহের প্রস্তুতি মিটিংয়ে আকস্মিকভাবে লিও জেলার ২০১৮-১৯ সালের কমিটি ঘোষণা করে যেখানে দক্ষ, যোগ্য, ত্যাগী ও লিওবান্ধব নেতৃত্বকে উপেক্ষা করা হয় এবং অসক্রিয় কয়েকজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়। কমিটি ঘোষণার পর পরই সকল ক্লাবের লিওদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করে এবং সবাই এই অযোগ্য নেতৃত্বের বিরোধিতা করে জেলা গভর্নর জনাব এম. নুরুল হুদার সাথে কথা বলতে যান তাৎক্ষণিকভাবে উনি কথা বলবেন না বলে তাদের দুই দিন পরে আসতে বলেন। এরই ধারাবাহিকতায় লিও জেলার ২৩ টি লিও ক্লাবের মধ্যে ১৯ টি ক্লাবের লিও নেতৃবৃন্দ ঘোষিত কমিটির বিরুদ্ধে অবস্থান এবং যোগ্যদের যথাযথ মূল্যায়নের দাবীতে একাত্বতা ঘোষণা করে জেলা গভর্নরের সাথে মিটিং করতে যায় গতকাল ২ অক্টোবরে রাতে। তারা জেলা গভর্নরের সাথে আলাপকালে বিগত দিনে পরিশ্রমী ও যোগ্যদের যথাযথ ও সঠিকভাবে মূল্যায়ন করার বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরে গভর্নরকে অনুরোধ জানান। কিন্তু জেলা গভর্নর তাদের সে কথায় কর্ণপাত না করে তিনি বলেন তিনি সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ উনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটাই চূড়ান্ত এবং এর কোনোরকম বিবেচনা বা পরিবর্তন তিনি করবেন না তখন লিওরা সেখান থেকে বেরিয়ে আসে এবং তাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক লিও সদস্য বলেন, “আমাদের দেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ যেখানে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে গণতন্ত্রের মানসকন্যা উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে সেখানে এই সংগঠনে গণতন্ত্রকে এভাবে উপেক্ষা করা আমাদের সংবিধানের প্রত্যক্ষ লঙ্ঘন।” এসময় লিও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ রাগে ও ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং অচিরেই তারা এই কমিটিকে বিলুপ্ত করার দাবী জানান। অন্যথায়, তারা লিও ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল ত্যাগ করার কথাও বলেন।

লায়ন্স জেলা ৩১৫এ১ এর কয়েকজন সিনিয়র লায়নদের সাথে কথা বলে জানা যায় এখানে মেজরিটি ক্লাবের যে দাবী তা যুক্তিযুক্ত এবং জেলা গভর্নর এককভাবে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে যোগ্যরা বঞ্চিত হয়েছে উনার এই সিদ্ধান্ত স্বেচ্ছাচারিতার সামিল এই কমিটি পরিবর্তন করা না হলে লিওদের মধ্যে যে অসন্তোষ দেখা গিয়েছে তাতে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা আশংকা করে বলে, “যারা বঞ্চিত হয়েছে, তারা যথেষ্ট আন্তরিকতার সাথে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে”

উল্লেখ্য, গত ২৯ সেপ্টেম্বর ঘোষিত কমিটিতে যাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নসহ করা হয়েছে তারা আগের বছরগুলোতে তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন না, যেখানে লায়ন্স ক্লাবের একটি রুলস হলো ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পরের বছর কমিটি করা হয় কিন্তু এখানে ২০১৭-১৮ বছরের লিও জেলা ৩১৫এ১ এর সহ-সভাপতি লিও সুজন মিয়া, সেক্রেটারি লিও তাওহিদুল ইসলাম আনিক, ট্রেজারার লিও ঈশিতা আক্তার দ্বায়িত্ব পালন করে কিন্ত সদ্য ঘোষিত কমিটিতে লিও সুজন মিয়াকে আগের ১ম সহ-সভাপতি পদেই রাখা হয়েছে এবং সেক্রেটারি, ট্রেজারার কাউকেই এই কমিটিতে রাখা হয় নি। লায়ন ক্লাবের রুলস অনুযায়ী আগের বছর যে সহ-সভাপতি থাকে পরে বছর তিনিই সভাপতি হন কিন্তু এখানে দেখা যায় গভর্নর এককভাবে এই ধারাবাহিকতা ভেঙে নিজ ইচ্ছায় অযোগ্যদের কমিটিতে পদায়ন করেছে কিছু লিও দাবি করে লায়ন জেলা থেকে ২০১৮-১৯ সালের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত লিও ক্লাব চেয়ারপার্সন লায়ন আজাহার মাহমুদ পদপ্রাপ্ত লিওদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এবং উনিও গভর্নরকে প্রভাবিত করে এই অযোগ্য কমিটি ঘোষণা করিয়েছেন। তাই লায়ন জেলা ৩১৫এ১ এ লায়ন আজাহার মাহমুদ কে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে ১৯ টি ক্লাবের লিওরা এসময় তারা বলেন, “আমাদের সাথে যে অবিচার ও স্বেচ্ছাচারী আচরন করা হয়েছে এর জন্য আমরা লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল এর বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত আন্তর্জাতিক পরিচালক লায়ন কাজী আকরাম উদ্দিন স্যারসহ লায়ন্সের সকল নেতৃবৃন্দের কাছে গিয়ে এই অবিচারের কথা তুলে ধরবেন।

লিও জেলা ৩১৫এ১ এর ২০১৮-১৯ মেয়াদের কমিটি ঘোষণার পরই বেশ কয়েকজন সম্মানিত সিনিয়র লায়ন নেতা সরাসরি মন্তব্য করেছেন, “গত বছর প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতিতে যেভাবে তৎকালীন ফার্স্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট লিও সুজন মিয়া জেলার কার্যক্রম এগিয়ে নিয়েছে, তাতে এ বছর প্রেসিডেন্ট হিসেবে সুজনকে ছাড়া অন্য কাউকে দেয়া মানে সরাসরি নির্বিচার করা”

এখন লিও নেতৃবৃন্দ এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ লিওদের একটাই আক্ষেপ যে কীভাবে সম্মানিত জেলা গভর্নর প্রায় ৮০ শতাংশ লিওদের মতামতকে তুচ্ছজ্ঞান করে নিজ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে এই জেলার লিও কমিটি ঘোষণা করলেন। তাদের এখন একটাই প্রত্যাশা যে দেশের সরকার সুষ্ঠুভাবে গণতন্ত্রের চর্চার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, সেখানে একটি আন্তর্জাতিক মানের সংগঠনের উচ্চ পর্যায়ের একজন নেতার এই স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে সংখ্যাগরিষ্ঠ লিওদের সুবিচার পেতে দেশীয় উচ্চ পর্যায়ের গণতন্ত্রমনা নেতৃবৃন্দ কতটুকু এগিয়ে আসেন ৷



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

China Scholarship bd

Somoy-Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis. © All rights reserved  2018 somoytribune.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com