বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ০২:০৯ অপরাহ্ন

বঙ্গবন্ধু-প্রতিকৃতিতে ছাত্রলীগের গভীর শ্রদ্ধা

বঙ্গবন্ধু-প্রতিকৃতিতে ছাত্রলীগের গভীর শ্রদ্ধা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ছাত্রলীগের নবনির্বাচিত সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ।

শাহআলম বেপারী

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন  নবনির্বাচিত ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সন্জীব দাস, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন।

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রথমে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তারা।

দিবসটি উপলক্ষে বাদ জুমা দেশের সব মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

রাজধানীসহ সারাদেশে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হবে। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও বেতার বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করবে এবং পত্রিকাগুলো ক্রোড়পত্র ও নিবন্ধ প্রকাশ করবে।

উল্লেখ্য,১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের বীভত্সতা! সেদিন কি ঘটেছিল তা স্মৃতিতে আনলে আঁতকে উঠতে হয়। কাপুরুষোচিত আক্রমণ চালিয়ে পৈশাচিক পন্থায় ঘাতক দল রাতের অন্ধকারে হামলা চালায় স্বাধীনতার স্থপতির বাসভবনে। সেদিন প্রতিটি তলার দেয়াল, জানালার কাঁচ, মেঝে ও ছাদে রক্ত, মগজ ও হাড়ের গুঁড়ো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। রীতিমতো যেন ওই বাড়িতে রক্তগঙ্গা বইছে। গুলির আঘাতে দেয়ালগুলোও ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। চারপাশে রক্তের সাগরের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল ঘরের জিনিসপত্র। প্রথম তলার সিঁড়ির মাঝখানে নিথর পড়ে আছেন ঘাতকের বুলেটে ঝাঁঝরা হওয়া চেক লুঙ্গি ও সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লাশ। তাঁর তলপেট ও বুক ছিল বুলেটে ঝাঁঝরা। নিথর দেহের পাশেই পড়ে ছিল তাঁর ভাঙা চশমা ও অতিপ্রিয় তামাকের পাইপটি। অভ্যর্থনা কক্ষে শেখ কামাল, টেলিফোন অপারেটর, মূল বেডরুমের সামনে বেগম মুজিব, বেডরুমে সুলতানা কামাল, শেখ জামাল, রোজী জামাল, নিচতলার সিঁড়ি সংলগ্ন বাথরুমে শেখ নাসের এবং মূল বেডরুমে দুই ভাবীর ঠিক মাঝখানে বুলেটে ক্ষত-বিক্ষত রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিল ছোট্ট শিশু শেখ রাসেলের লাশ। লুঙ্গিতে জড়ানো শিশু রাসেলের রক্তভেজা লাশ দেখে খুনিদের প্রতি চরম ঘৃণা-ধিক্কার জানানোর ভাষা পায় না মানবতাবাদী বিশ্বের কোন মানুষ। এমন নারকীয় পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।

আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এই দিন সরকারি ছুটির দিন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়। এছাড়া বিধি সংশোধন করে সরকারিভাবে নির্ধারিত দিন ছাড়া জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৮ সালে ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণার মাধ্যমে দিনটি সরকারি ছুটি হিসেবে পুনর্বহাল করে।

রাষ্ট্রপতির বাণী
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, আজ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক বেদনাবিধূর দিন। ১৫ আগস্টের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের বিচারের মাধ্যমে দেশ আজ কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। পলাতক হত্যাকারীদের বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর হবে— জাতীয় শোক দিবসে এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা। ঘাতকচক্র জাতির পিতাকে হত্যা করলেও তাঁর নীতি ও আদর্শকে মুছে ফেলতে পারেনি।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণীতে বলেন, জাতির পিতার দূরদর্শী, সাহসী এবং ঐন্দ্রজালিক নেতৃত্বে বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য। বাঙালি পেয়েছে স্বাধীন রাষ্ট্র, নিজস্ব পতাকা ও জাতীয় সংগীত। সদ্য স্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যখন সমগ্র জাতিকে নিয়ে সোনার বাংলা গড়ার সংগ্রামে নিয়োজিত, তখনই স্বাধীনতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধী চক্র তাঁকে হত্যা করে।

কর্মসূচি
আজ সরকারি ছুটির দিন। সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে আজ।

দিনের শুরুতে সকাল সাড়ে ৬টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে দেশ ও জাতির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় কোরআন

তিলাওয়াত ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। বঙ্গভবনের দরবার হলে দুপুর সোয়া ১টায় বিশেষ মিলাদ মাহফিলে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি। সকাল সাড়ে ৭টায় প্রধানমন্ত্রী বনানী কবরস্থানে গিয়ে ১৫ আগস্টে শহীদ বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্য ও অন্য শহীদদের কবরে পুষ্পস্তবক ও ফুলের পাপড়ি অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়ায় সকাল ১০টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, হামদ্ ও নাত প্রতিযোগিতা ও দোয়ার আয়োজন করবে। সারাদেশে সকল মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হবে। বাদ জোহর সকল মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচি
জাতির পিতার ৪৩তম শাহাদাত্বার্ষিকী পালনে আওয়ামী লীগ আজ সূর্য উদয় ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সংগঠনের সকল স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ এবং কালো পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ছয়টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, ৬টা ৪০ মিনিটে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সকল সংগঠন এবং নগরীর প্রতিটি শাখা থেকে শোক মিছিলসহ বঙ্গবন্ধু ভবনের সম্মুখে আগমন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন, সাড়ে ৭টায় বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, মাজার জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল, সকাল ১০টায় টুিঙ্গপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও বিশেষ দোয়া মাহফিল। বাদ আছর মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকবেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

China Scholarship bd

Somoy-Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis. © All rights reserved  2018 somoytribune.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com