বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ০২:৪৪ অপরাহ্ন

বলতে চায় একদল সপ্ন সারথীর গল্প “

বলতে চায় একদল সপ্ন সারথীর গল্প “

এস.এম.মহিউদ্দিন সিদ্দিকী,
জাককানইবি প্রতিনিধি :
নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি। তার স্মরণে কবি নজরুলের স্মৃতি বিজরিত বটতলাতে এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয় । কবি নজরুল ছোট বেলায়  বটগাছের নিচে বসে বাঁশি বাজাতেন।
ক্যাম্পাসের প্রতি গভীর টান, রয়েছে  ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের মেলবন্ধন। যেন ক্যাম্পাসের অস্তিত্বের শেকড় মিশে আছে আত্মার সাথে। তারুণ্যের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম  বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের ময়মনসিংহ বিভাগ এর ত্রিশালে অবস্থিত।  এই বিশ্ববিদ্যালয় ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত।  নজরুল স্মৃতিবীজরিত বটবৃক্ষ ক্যাম্পাসকে আগলে রেখেছে পরম মমতা ও ভালোবাসায়।  বটতলায় বহু অনুষ্ঠানের স্মৃতি, বটতলার ছায়া এই বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রত্যেকের কাছে এক আবেগের স্থান।
বিশ্ববিদ্যালয়ে সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ।  কারো ক্লাস, কারো পরীক্ষা আবার কারোবা বিভিন্ন পাঠ নিয়ে শিক্ষকদের সাথে পরামর্শ।  আবার কেউ কেউ ক্লাসের ফাঁকে শব্দ- মঙ্গল,পেত্নিতলা  বসে মন খুলে আড্ডা দেয়।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজারও শিক্ষার্থীর পদচারিত ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ হাজারও সমস্যা নিয়েও নেই কোন অভিযোগ, নেই ক্ষোভ। আছে প্রাণের স্পন্দন ক্যাম্পাসের প্রতি গভীর টান, রয়েছে  ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের মেলবন্ধন। যেন ক্যাম্পাসের অস্তিত্বের শেকড় মিশে আছে আত্মার সাথে। তারুণ্যের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
এগিয়ে গিয়ে দেখা হল  ১০/১২  জন তরুণের সাথে যারা আড্ডা দিচ্ছিল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর সামনে। কথা হল ওদের সাথে। ওরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাইনান্স এন্ড ব্যাংকিং  বিভাগে পড়াশোনা করছে। গত ৩ টি বছর পেরিয়ে ৪ বছরে কোন সেশন জট ছাড়া ৭ম সেমিস্টার শেষ করেছে তারা। তাই পড়াশোনা আজ নাকি আর তাদের টানছে না।
 
মেধাবী ছেলে অর্নব, সবাইকে লাইব্রেরীর ভিতরে যাওয়ার জন্য বার বার তাগিদ দিচ্ছে, ওদিকে জীবন নামের লম্বা ছেলেটা ওকে থামিয়ে বলে আজ আর লাইব্রেরিতে যাবোনা…আজ সারাদিন আড্ডা,গান,ও গল্প করে কাটাবো সারাদিন।
জীবন এর সাথে তাল মিলিয়ে রুবেল,রাহিম,মেহেদী,  বলছিলো পড়াশোনাতো রোজ করি, আজ আড্ডা দেই, মজা করি।
 এবার গলা মেলাল কায়েস, বলল সত্যি, এখানে  ভর্তি না হলে তোদের মতো বন্ধু পেতাম না, এভাবে আড্ডা, ফাঁকে ফাঁকে পড়া, এই ধুলো,কাদা, ও নতুন রাস্তা,পুবের হাট,পেত্নিতলা,ট্রামপুল,আবেগের মুর,সব
মিলিয়ে এ যেন এক স্বপ্ননীড়।

ক্যা ম্পা স  নি য়ে  গ ল্প””””””

  যৌবনের প্রথম প্রেম নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়,,

 হাবীবুর রহমান( জীবন),
ফাইন্যান্স আ্যন্ড ব্যাংকিং,

প্রত্যেকটি ছাত্রের জীবনের বহুল আকাঙ্খার জায়গা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়।
ছোটবেলায় রচনা পড়ে পড়ে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বড় হতে থাকার ধারাবাহিকতায় সাইন্স নিয়ে এস,এস,সি এবং এইচ এস সি সম্পূর্ণ করার পর যখন বুঝলাম সাইন্স আমার জন্য না তখনই পরিচিত হয় এই ছোট্ট ক্যাম্পাসের প্রাণের ডিপার্টমেন্ট ফ্যাইন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং ডেপ্টের সাথে।
ভেবেছিলাম এই বিভাগে এডজাস্ট করতে কষ্ট হবে কিন্তু পরক্ষণেই আমার ধারণা পাল্টে যায়।স্যারদের ক্লাশ লেকচার, আর বন্ধুদের অনুপ্রেরণায় এই সাবজেক্ট ও এই ডিপার্টমেন্ট মিশে যায় রক্তে।
আমার ডিপার্টমেন্ট  আমার অভ্যস্ততা,আমার অস্তিত্ব।
হৃদয়ের অন্তরের অন্তরস্থল থেকে শ্রদ্ধা সেই সমস্ত শিক্ষক মহোদয়ের প্রতি যাদের নিরলস প্ররিশ্রমে আমি নির্দিষ্ট সময়ে বিবিএ এবং এমবিএ করার স্বপ্ন দেখি।
ভার্সিটির নির্জন পরিবেশ এবং সিনিয়র ভাইয়া আপুর উদারতা আমায় মুগ্ধ করে।
হয়ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একসময়  থাকবে না আমার অবাধ যাতায়াত! তবে আমি কখনো ভুলবোনা আমার যৌবনের প্রথম প্রেম এই  ভার্সিটি এবং আমার রসের নাগর ফ্যাইন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং ডিপার্টমেন্ট কে।
ভালো থাকুক প্রানের ক্যাম্পাস এবং প্রানের ক্যাম্পাসে অধ্যয়ন করতে আসা সকল শিক্ষার্থীরা।
সাদি নামের ছেলেটা চেঁচিয়ে বলে উঠলো– তোরা না থাকলে এত ভাল রেজাল্ট হত আমার! তোদের কারণেই আজ আমার ভালো রিজাল্ট। তোদের এই গান, আড্ডাবাজি, কবিতা আর বিতর্ক আমাকে  অনেক কিছু শিখায়।
আলো থাকতে থাকতে একটা ছবি তুলতে হবে,অর্নব,মেহেদি, জীবন,কায়েস,সাব্বির,রুবেল, আর রাহিমকে নিয়ে ফ্রেমে ঢুকে পড়ল। এবার ক্লিক ক্লিক ক্লিক। আর ফ্রেমে যে ছবি বন্দি হল তা চিরন্তন বন্ধুত্বের অমলিন নিদর্শন, ভালোবাসার সাক্ষী। ক্যাম্পাস জীবনের সেরা অর্জন।
কীভাবে চার বছর কাটাবো এই ভয়ংকর ক্যাম্পাসে!
এনামুল ,
ফাইন্যান্স আ্যন্ড ব্যাংকিং,

কীভাবে যেন চারটি বছর চলে গেলো! টেরই পেলাম না! প্রথমে মনে হত–কীভাবে চার বছর কাটাবো এই ভয়ংকর ক্যাম্পাসে! আজ অবাক লাগে… কত দ্রুতই না চলে গেলো সুন্দর দিনগুলো বন্ধুদের সাথে।

ছেলেবেলা থেকে অনেক সময়েই ভাবতাম, কবে যে লেখাপড়ার এই অনবরত অত্যাচার শেষ হবে! আজ অনেকটাই পরিসমাপ্তি। যদিও পুরোপুরি না– হয়ত আগামীতে আরও পড়তে হবে– অনেক কঠিন করেই।

মনে হয় কি যেন নেই!

সাব্বির,

ফাইন্যান্স আ্যন্ড ব্যাংকিং,

আমারা সবাই মনখুলে আমাদের কথাগুলো শেয়ার করতে পারি।  আমরা কোনো সমস্যায় পড়লে বড় ভাই, আপুরা আমাদের সমস্যা সমাধান করে দেন।  এটা আমার খুব ভালো লাগে।যখন ছুটিতে বাড়িতে যাই তখন ক্যাম্পাসটাকে খুব মিস করি।  মনে হয় কি যেন নেই!

আচ্ছা, জীবনে এত্তো ছুটে চলা কেন? শুধুই ক্রমাগত এগিয়ে চলা… আমার সহ্য হয়না…ভাবতে ভাবতে নিজেকে হারিয়ে ফেলি এক অজানা দেশে। কত্তো রকম অনুভূতি হলো আমার গতকাল থেকে! কিন্তু যখন লিখতে বসলাম, তখন আর কিছুই নেই মনে!

তবে লিখবো… সময় পেলেই লিখবো।নজরুল  বিশ্ববিদ্যালয়ে জীবনের শেষ ক’দিন আমি সকলের অনুভূতিগুলোকে জমা করতে চাই……..



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

China Scholarship bd

Somoy-Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis. © All rights reserved  2018 somoytribune.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com