মঙ্গলবার, ২১ অগাস্ট ২০১৮, ০৭:২৭ অপরাহ্ন

শিক্ষকদের আন্তরিকতার অভাবে পরিসংখ্যান বিভাগে নজিরবিহীন ফল বিপর্যয়

শিক্ষকদের আন্তরিকতার অভাবে পরিসংখ্যান বিভাগে নজিরবিহীন ফল বিপর্যয়

আহসান জোবায়ের, জবি সংবাদদাতা,

রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) পরিসংখ্যান বিভাগে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ৪র্থ সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা দিয়েছিলেন ৮১ জন। তাদের মধ্যে ১৭ জনই অকৃতকার্য হয়েছেন। ২য় বর্ষ থেকে ১ম সেমিস্টার পরীক্ষা দিয়েও অকৃতকার্য হয়েছেন প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে অনেকে তাদের ছাত্রত্ব হারাচ্ছেন। সব বিষয়ে পাস করেছেন ৫৫ জন।

সংশ্লিষ্ট বিভাগের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের প্রতি যথাযথ মনোযোগ না দেওয়াতেই এ ফল বিপর্যয় ঘটেছে। বিশেষ করে প্রশ্ন মডারেশনের নামে জটিল বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্নপত্র তৈরি করেন। সারাদিন পড়াশুনা করেও শিক্ষকদের আন্তরিকতার অভাবে ফেল করতে হয়। অর্ডার স্ট্যাস্টিক কোর্সে বেশিসংখ্যক ছাত্র অকৃতকার্য হয়েছেন।

এ ছাড়াও প্রতিবার চূড়ান্ত পরীক্ষার সঙ্গে আগের ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়ন পরীক্ষা দেয়া নজিরবিহীন। এবার মূল পরীক্ষার্থীদের সাথে ৫১ জন ফেল করা বিষয়ে মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। তার মধ্যে ২৫ জন পাস করেছেন। বাকিরা আবারও ফেল করেছেন। এর আগেও ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হয় গত বছরের জুলাই মাসে। এতে অংশ নেওয়া ৮২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬০ জন অকৃতকার্য হয়েছেন। সব কোর্সে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ২২ জন। তাদের গড় সিজিপিএ মাত্র ২.১৫। সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন ‘লিনিয়ার অ্যালজেবরা’ কোর্সে।

নাম উল্লেখ করে কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেছেন, কোনো কোনো শিক্ষকের পাঠদান অধিকাংশ শিক্ষার্থীই বোঝেন না। এ ছাড়া অনেক শিক্ষক পড়াশোনার বিষয়ে ক্লাসের পরে দেখা করতে গেলে সময় দেন না।

তবে রিনিয়ার অ্যালজেবরা কোর্সের শিক্ষক বলেন, ‘প্রথম সেমিস্টারে ভর্তি হয়েই অধিকাংশ শিক্ষার্থী মেডিক্যাল বা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়। বিভাগের পড়াশোনায় তেমন মনোযোগী হয় না। ফলে প্রথম সেমিস্টারে অনেকেই অকৃতকার্য হয়।’

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি স্নাতকোত্তর ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষার ফল দেওয়া হয়। সেখানেও ঘটেছে বিপর্যয়। ওই পরীক্ষায় দ্বিতীয় সেমিস্টারে কোর্স ছিল ছয়টি। এর মধ্যে অনেকেই গড়ে দুই থেকে তিনটি কোর্সে অকৃতকার্য হয়েছেন। বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের আবার সবগুলো কোর্সে পরীক্ষা দিতে হবে। এর প্রতিবাদে গত ২০ ফেব্রুয়ারি উপাচার্য বরাবর লিখিত আবেদন করেন শিক্ষার্থীরা।

দেখা গেছে, চূড়ান্ত পরীক্ষায় একসঙ্গে এত শিক্ষার্থীর অকৃতকার্যের বিষয়টি এ বিশ্ববিদ্যালয়ে নজিরবিহীন। এ ছাড়া প্রতিটি চূড়ান্ত পরীক্ষায় বেশিসংখ্যক মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থী থাকা নজিরবিহীন। বারবার মানোন্নয়ন পরীক্ষা দিয়েও কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছে না ছাত্ররা। বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের ভবিষ্যত্ নিয়ে চিন্তিত।

বিভাগের চেয়ারম্যান আশরাফ-উল-আলম হতাশাজনক ফলের জন্য শিক্ষকদের দায়ী করার অভিযোগ উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘পাঠদানে বিভাগের সব শিক্ষকই আন্তরিক। যারা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে তাদের অনেকেই নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকে না।’

পাঠ বোঝাতে পারেন না এমন অভিযোগের সম্মুখীন একজন শিক্ষকের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শিক্ষকরা ফাঁকি দেন না। পড়া বুঝতে না পারা শিক্ষার্থীদেরই ব্যর্থতা।’

আবার পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এ কে এম আক্তারুজ্জামান ইত্তেফাককে বলেন, ‘অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সিজিপিএ-২.২৫ থাকলে সব বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে না। কম হলে পরবর্তী সেমিস্টারের সঙ্গে আবার ভর্তি হতে হবে।’

এ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদ্ধতি অনুযায়ী কোনো শিক্ষার্থী প্রথম সেমিস্টারে অকৃতকার্য হলে তাকে পরবর্তী ব্যাচের সঙ্গে আবার পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এরপর যদি আবার অকৃতকার্য হন তাহলে তার ভর্তি বাতিল হয়ে যাবে।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক,



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

China Scholarship bd

Somoy-Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis. © All rights reserved  2018 somoytribune.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com