রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৮:৩২ অপরাহ্ন

বিতর্ক নিয়ে মাহমুদুল হাসানের এগিয়ে চলা

বিতর্ক নিয়ে মাহমুদুল হাসানের এগিয়ে চলা

জহিরুল ইসলাম:
শিশুর জন্ম নেয়ার সাথে সাথে পৃথিবীতে জন্ম নেয় আরও এক ফালি স্বপ্ন। কোনটা জন্মধাত্রি মায়ের কোনটি জন্মদাতা পিতার আর নানান স্বপ্ন পরিবারের অন্য সদস্যদেরও। তাই বলা চলে আগত মানুষটির স্বপ্ন তার পরিবারের মানুষগুলোর স্বপ্নের চাইতে একেবারেই নাবালেগ।

তবে যদি সদ্য পৃথিবী দেখা মানুষটির সাথে পরিবারের মানুষের স্বপ্নে কিছুটা মিল থেকে যায় তাহলে কেমন হয়? যেমনটা হয়েছে মাহমুদুল হাসানের ক্ষেত্রে। জাহিদ নামে সবার কাছে প্রিয় এই মুখটি দিনে দিনে হয়ে উঠছে যেন আরও উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতম।

পড়াশুনা করছেন ঢাকা কলেজে অনার্স ৩য় বর্ষে। নিয়মিত বিতর্ক চর্চার সাথে জড়িত রয়েছেন। কিছুদিন আগেই জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৭ তে একক বিতর্কে ১ম হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। তার বাবা মায়েরও স্বপ্ন ছিলো ছেলে বড় হয়ে এমনভাবে নিজের ব্যক্তিত্ব প্রতিষ্ঠা করবে, যার কথা সবাই মনোযোগ দিয়ে শুনবে এবং সমাজে আসবে পরিবর্তন।

এই বিতার্কিকের প্রথম এবং শেষ পছন্দ সুন্দর করে কথা বলে যাওয়া। কারণ তার মতে কথা বলাটাও একটা শিল্প। তার অনেক অর্জিত পুরস্কারের মধ্যে, জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৭ তে একক বিতর্কে ১ম হিসেবে মনোনীত হওটাকেই তার অর্জন গুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ মনে করেন।

৩টি ধাপে ১ম হয়ে নিজের প্রতিষ্ঠানের হয়ে জাতীয় পর্যায়ে ১ম হওয়া চ্যালেঞ্জের। তাই অধীর আগ্রহে পুরষ্কারটি হাতে পাবার জন্য অপেক্ষা করছেন। এছাড়া এ বছর এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত বক্তৃতায় ফাইনালিস্ট ও ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত প্রতিযোগিতায় ২য় রানার আপ হওয়ারর গৌরব অর্জনের মাধ্যমে মেয়র সাইদ খোকনের কাছ থেকে পুরষ্কার গ্রহন করেন।

গত বছরের শেষ দিকে টিআইবি এর পাবলিক স্পিকিং এ ২য় রানার আপ ছিলেন তিনি। চমৎকার উপস্থাপনাশৈলী দিয়ে ১ম বর্ষ থেকেই সুযোগ পান কলেজের বিতর্ক ক্লাব এর মূল দলে। জাতীয় জাদুঘর আয়োজিত জাতীয় শোক দিবস বক্তৃতায় ১ম হওয়ার মাধ্যমে শুরু হয় তার পথ চলা, যার ধারাবাহিকতায় কলেজের অভ্যন্তরে ১০টি ও বাইরে ৭টি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। এর মধ্যে গত বছর বিভিন্ন পাবলিক, প্রাইভেট ভার্সিটিকে হারিয়ে ২টি আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ফাইনালেও ছিলেন।

এই স্বপ্নাতুর মানুষটির বিতর্কের পথ চলা স্কুল জীবন থেকেই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত উপস্থিত বক্তৃতায় ১ম হয়েছিলেন ২০১০ সালে। এর পর ২০১০ ও ১৩ তে টিআইবি আয়োজিত প্রতিযোগিতায় ও ফাইনালিস্ট ছিলেন এই বিতার্কিক। তার অর্জন এবং সপ্ন নিয়ে জানতে চাইলে জাহিদ বলেন, ‘স্কুল জীবন থেকেই বিতর্ক, বক্তৃতা এগুলো একরকম নেশার মত হয়ে যায়, সেসময় থেকেই নিজেকে যুক্তিবান একজন মানুষ হিসেবে গড়ার চেষ্টা অব্যাহত ছিলো চর্চার মাধ্যমে।

আর সবসময় চেষ্টা করেছি কিভাবে সুন্দর করে কথা বলে সবার মন জয় করা যায়। তার মতে কথা এক প্রকার শিল্প। কথাকে সুন্দর ভাবে গাঁথুনির মাধ্যমে ব্যাক্তি ও সমাজকে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব’। আর তাই ভবিষ্যতে নিজের কথা ও সৃজনশীলতা দিয়ে গণমাধ্যমে একজন সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সপ্ন দেখেন এই তরুণ বিতার্কিক।

বিতর্কের বাইরে বর্তমানে লক্ষ্য নিউজ প্রেজেন্টেশন একাডেমির ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে উপস্থাপক হিসেবে কাজ করছেন তিনি। সিনিয়র নিউজ প্রেজেন্টারদের জীবনের বিভিন্ন গল্প নিয়ে সাজানো “হ্যালো প্রেজেণ্টার” অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা নিয়ে তিনি বলেন এটা ক্যারিয়ারের শুরুতেই অনেক বড় সুযোগ আমার জন্য, এত বড় মানুষদের সাথে কথা বলতে পারাটা সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। তিনি বলেন এই সুযোগ তৈরি হয়েছে পরিশ্রমের দ্বারা, যদি কেউ নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে লেগে থাকে তবে অবশ্যই সে সফল হবে।#৪৬৮#জহির#



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

China Scholarship bd

Somoy-Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis. © All rights reserved  2018 somoytribune.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com