সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৬:২৪ অপরাহ্ন

সিটি নির্বাচন নিয়ে যা ভাবছেন গাজীপুরের ভোটাররা

সিটি নির্বাচন নিয়ে যা ভাবছেন গাজীপুরের ভোটাররা

নিজস্ব প্রতিবেদক

মঙ্গলবার (২৬ জুন) গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া কাজ করছে। কেউ বলছেন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। আবার কেউ বলছেন একজনের ভোট আরেকজন দিলেও কারও কিছু করার নেই।

এ ব্যাপারে কথা হয় মহানগরের ঢাকা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের সঙ্গে। মৌসুমী ফল বিক্রি করে সংসার চালান তিনি। গত নির্বাচনেও ডুয়েট কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দিনে কোনও এক সময়ে ভোট দেবো। আর আমার ভোট যদি কেউ দিয়ে ফেলে সেক্ষেত্রে কিছু করার নেই।’

মহানগরের সাহা পাড়া এলাকার পান সিগারেট বিক্রেতা মো. রজব আলী বলেন, ‘মঙ্গলবার (২৬ জুন) সকাল সকাল ভোট দেওয়ার চিন্তা রয়েছে। কোনও প্রকার গোলযোগ হওয়ার আগেই ভোট দিতে চাই। গত নির্বাচনে মহানগরের প্রায় সবকটি কেন্দ্রেই সুষ্ঠু ভোট হয়েছে। এবারও হবে বলে বিশ্বাস করি। যদি কোনও সমস্যা হয়, তাহলে আমার ভোটটি যাতে কেউ দিতে না পারে সেজন্য আগেভাগেই ভোট দিয়ে দেবো।’

মহানগরের শহীদ স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার ও রেস্টুরেন্ট পরিচালক মাসুদ মিয়া বলেন, ‘ভোট সুষ্ঠু হবে কিনা জানি না। তবে আমি এবং আমার পরিবারের সবাই দিনের শুরুতেই ভোট দেবো। মেয়র পদে যোগ্য ব্যাক্তিকেই ভোট দেবো।’

মহানগরের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গাছা ইচরকান্দি এলাকার অরুন চন্দ্র রায় মাছ বিক্রেতা। তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রামে কখনও ভোটে অনিয়ম হয়নি। এবারও হবে বলে মনে করি না। আমাদের ইচরকান্দি গ্রামে দুই হাজার ৭০০ ভোটার। এখানে শান্তিপূর্ণ ভোট হবে।’

পূবাইল (মীরের বাজার) এলাকার ওষুধ ব্যবসায়ী সোলায়মান হক প্রত্যয়ন সংক্রান্ত কাজে রবিবার গাজীপুর মহানগরে আসেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কেমন হবে তা ভোটের দিনই বোঝা যাবে। প্রশাসনের লোকজন ইচ্ছে করলেই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হতে পারে।’

মহানগরের সালনা এলাকার আব্দুল বারেক পেশায় একজন ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘ভোটের দিন বলতে পারব, ভোট দিতে কেন্দ্রে যাব কিনা। যদি দেখি পরিবেশ ভালো, তাহলে ভোট দিতে যাব। নাহলে দোকান খুলে কাজ করে পেট চালানোর চিন্তা করবো।’

হ্রদখোলা এলাকার গৃহিনী রোকেয়া বেগম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ তো বলতাছে কোনও গণ্ডগোল হবে না। আবার বিএনপি’র লোকজন বলে বুঝতাছি না নির্বাচনের দিন কী হয়। যদি হগলতের মন বালা থাহে তাহলে ভোটের দিন কোনও কাইজ্জ-কাইজ্জি হবে না। কাইজ্জা না লাগলে ভোট দিবার যামু।’

ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের মাস্টার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মহানগরের পোড়াবাড়ি (মাস্টারবাড়ি) এলাকার শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমি এবারই প্রথম ভোট দেবো। নতুন ভোটার হিসেবে আমার খুব ভাল লাগছে। সবাই আমার কাছে ভোট চাইছে। তবে সমাজে যে প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা আছে তাকেই ভোট দেবো।’

এ ব্যাপারে গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) হারুন অর রশীদ বলেন, ‘নির্বাচনে কোনও প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা দেখছি না। নির্বাচন সুষ্ঠু করার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। যে কোনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা সচেষ্ট।’

এদিকে খুলনা রেঞ্জ পুলিশের উপ-মহা পুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) দিদার আহম্মদ জানিয়েছেন, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ৩০০ পুলিশ সদস্যকে সেখানে পাঠানো হয়েছে। কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত বিভিন্ন পদবীর পুলিশ সদস্যরা সেখানে রয়েছে।’



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

China Scholarship bd

Somoy-Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis. © All rights reserved  2018 somoytribune.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com