শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮, ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন

কেরামতি দেখাতে গিয়ে ধরা পড়ল ভন্ডপীর ফকির ছোটন শাহ

কেরামতি দেখাতে গিয়ে ধরা পড়ল ভন্ডপীর ফকির ছোটন শাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক||কদলপুরে অতিরিক্ত কেরামতি দেখাতে গিয়ে নিজের ফাঁদে নিজেই আটকা পড়েছে  ফকির ছোটন শাহ (৩৫) নামে এক ভন্ডপীর।
জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ভোর সকালে পাহাড়তলী ইউনিয়নের আদল্লাপাড়া এলাকার হযরত আস্রাফ শাহ (রাঃ) এর নামে প্রতিষ্ঠিত একটি আস্তানায় কয়েকজন সহযোগি প্রতারককে নিয়ে উপস্থিত হয়।

এ সময় সে আস্তানার সাথে থাকা একটি পুকুরের ঘাটে কোমর পানিতে নেমে নিজের শরীরের সাথে সংযুক্ত করে কিছু নাড়িভুড়ি পানিতে পরিস্কার করতে থাকে।

এ সময়  তার এক সহযোগি আস্তানার অদুরে থাকা একটি মসজিদের মোয়াজ্জিম আবদুস ছালামকে ডেকে এই দৃশ্য দেখায়। মোয়াজ্জিম ছোটন ফকির পেট থেকে তার নাড়িভুরি বের করে পানিতেপরিস্কার করতে দেখে হতভাগ হয়ে পড়েন।

চিৎকার করে জানতে চান কিভাবে একাজ হলো। ফকির বলে হযরত আস্রাফ শাহ চুরি মরে তার এই অবস্থা করেছে। Image may contain: 2 people

এতে তার কিছু হবে না। ভোরের আলো ফুটতে থাকলে পাড়ার লোকজনের মাধ্যমে খবরটি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে শুরু হয় কৌতুহলী নারী পুরুষের আস্তানার দিকে ছুটাছুটি।

এর আগে ভণ্ড ফকির পুকুর থেকে উঠে নাড়িভুরি পেটের সাথে চেপে রেখে আস্তানার দিকে যেতে থাকলে আশে পাশে থাকা তার সহযোগিরা ফকিরের সাহার্য্যে এগিয়ে যায়। ভূয়া ফকির ছোটন তার হাত থেকে নাড়িভুরি ফেলে দিয়ে দ্রুত আস্তানায় প্রবেশ করে। এখানে থাকা কয়েকজন নাড়িভুরি কুড়িয়ে নিয়ে পাশের ঝোপের দিকে চলে যায়।

অন্যরা আস্তানায় প্রবেশ করে ছোটনকে আগলে রেখে পেটে কাপড়ের ব্যাণ্ডেজ পড়ায়। সংবাদ পেয়ে সকাল ১১ টার দিকে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে শত শতআবেগী নারী পুরুষ ফকিরের কেরামত দেখতে আস্তানায় ভিড় করে। আস্তানার ভিতর কিছু লোকের বেষ্টনীর মধ্যে বসে ফকির হুক্কা টানছে আর ভক্তদের সাথে স্বাভাবিক কথাবার্তা বলছে।

তার গায়ে পাতলা সাদাগেঞ্জি ভিতর স্পষ্ট লক্ষ্য করা যাচ্ছে ব্যাণ্ডেজ। বাইরে দেখা গেছে আগে থেকে সাজিয়ে রাখা মানতের ডেকে অনেকেই টাকা পয়সা ফেলছে। তার সহযোগিরা ফকিরের বিভিন্ন সময় দেখানো কথিত কেরামত প্রচারে ব্যস্ত রয়েছে।

তারা বলেছেন পেট থেকে বের করে ফেলা নাড়িভুড়ি হুজুরের নিদ্দেশে দাফন করে ফেলা হয়েছে।
এরমধ্যে উপস্থিত হয় থানা ও চুয়েট ফাঁড়ী পুলিশ। ফকিরের পেটে কাপড়ের ব্যাণ্ডেজ দেখে তারা ফকিরকেহাসপাতালে নিয়ে যেতে প্রস্তাব দেয়। এতে বাঁধ সাজে কয়েকজন সহযোগি। ফকিরও হাসপাতালে যেতে অনিহা প্রকাশ করে ।

এক পর্যায়ে পুলিশের চাপে ফকির হাসপাতালে যেতে বাধ্য হয়। থানা পুলিশ তাকে সাথে নিয়ে যায় রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক সৌনম বড়ুয়া ফকিরের পেটের ব্যাণ্ডেজ খুলে দেখতে পায় তার শরীরে কোনো ধরণের কাঁটা ছেঁড়ার চিহ্ন নেই।

চিকিৎসকের এই অভিমত পেয়ে পুলিশ ফকিরকে নিয়ে যায় থানায়।কথা বললে ভণ্ড ফকির ছোটন বলে সে নাকি ধ্যানে থাকলে তার জ্ঞান থাকে না। তখন কি হয়েছিল এখন মনে নেই। থানার এস আই মুরাদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে  বলেন ছোটন ফকির এখন পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

থানার ওসি আসলে এব্যাপারে করণীয়নির্ধারণ হবে। এলাকার জনসাধারণ সূত্রে জানা যায়কদলপুর মোল্লাপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ শফির পুত্র ছোটন ফকির গত কয়েক বছর থেকে বিভিন্ন মাজারআস্তানায় ঘুরে ফিরে সময় কাটিয়ে নিজের কেরামতি জাহির করেছে প্রতারক সহযোগিদের মাধ্যমে।

প্রতি বছর সে ভক্তদের কাছ থেকে টাকা পয়সা ও গরু মহিষ নিয়ে ওরশ করতো।খবর নিয়ে জানা যায় হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান ছোটন আগে এলাকার পার্শ্ববর্তী পাহাড় থেকে ফাঁদ পেতে বন মোরগ ও পাখি শিকার করে বিক্রি করতো। কয়েক বছর আগে এই পেশা ছেড়ে প্রচার করতে থাকে সে হযরত আস্রাফ শাহ(রাঃ) এর দান পেয়েছে।

এরপর থেকে তার সাথে সহযোগি হিসাবে কাজ করতে থাকে ওই এলাকারডেকোরেশন দোকানী ইসহাক, শফি মুন্সিসহ বেশ কয়েকজন।

তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তার ঘটে চট্টগ্রাম শহর, রাউজান, হাটহাজারী, রাঙ্গুনীয়া, ফকিছড়ি এলাকা পর্যন্ত। এদিকে কদলপুর গ্রামের হযরত আস্রাফ শাহ মাজারের কয়েকজন খাদেম এই ভণ্ড ফকিরের বিরুদ্ধেগতকাল রাউজান থানায় প্রতারণার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

China Scholarship bd

Somoy-Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis. © All rights reserved  2018 somoytribune.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com