বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন

এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ইউনেস্কোর কনফারেন্সে বাংলাদেশের তরুণ

এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ইউনেস্কোর কনফারেন্সে বাংলাদেশের তরুণ

নিজস্ব প্রতিবেক,

সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক শহরে এপ্রিল ১৯-২১ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ৩য় বার্ষিক এডুকেশন সল্যুশান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স। এই কনফারেন্সের মূল আয়োজক ছিল এনওয়াইআইটি-র টিচার এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট ও ইউনেস্কো সেন্টার ফর গ্লোবাল এডুকেশন। এই কনফারেন্সকে কেন্দ্র করে একত্রিত হয়েছিলেন নানা দেশের শিক্ষা বিষয়ক নীতি নির্ধারক, শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মসহ আরও অনেকে। মূল্ লক্ষ্য একটাই – কিভাবে একটি সফল শিক্ষানীতি তৈরি করা যায় যা এসডিজি ৪ অর্জনে সহায়ক হবে এবং তরুণ্যের শক্তিকে কিভাবে কাজে লাগানো যায়।

২০টি দেশ থেকে প্রায় ৩০০-র বেশি প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করে এই কনফারেন্সে ( দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে নাইজেরিয়া, মেক্সিকো, চায়না, উগান্ডা, বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া, আবু ধাবী, তুরস্ক, ব্রিটেন, তাইওয়ান, নেপাল, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ঘানা, সাউথ আফ্রিকা, কানাডা, বেলজিয়াম, ফিলিপাইন, সাউথ কোরিয়া, পাপুয়া নিউগিনি). ৩ দিনের এই কনফারেন্স সার্থক ছিল এমনটাই মনে করেন আয়োজকরা। তারা বলেন- অংশগ্রহণকারীরা তাদের দেশের শিক্ষাবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন এবং বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধান নিয়ে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলেন। এতে করে কনফারেন্সেই বিভিন্ন দেশের সাফল্যের কথাগুলোর জানার সুযোগ পান অংগ্রহণকারীরা এবং আলোচনা করেন শিক্ষা বিষয়ক চ্যালেঞ্জ নিয়ে।

নিজ বক্তব্যে, এনওয়াইআইট এর টিচার এডুকেশন ডিপার্টমেন্টের চেয়ার এবং এই কনফারেন্সের কো-চেয়ার ড. হুই ওয়াইন শু গ্লোবাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শিক্ষক প্রস্তুতির গুরুত্ব টেনে বলেন, মানসম্মত জীবনব্যাপী শিক্ষা নিশ্চিত করতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার অনেক সুফল বয়ে আনতে পারে। এনওয়াইআইট এর শিক্ষকমন্ডলী (ড. রবার্ট ফাইরসেন, ড. শিয়াং ওয়াং, ড. মেলডা ভিলডিজ, ড. মিনাজ ফাজাল) শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও এসডিজি ৪ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ”এভিডেন্স বেইজড ট্রান্সফরমেটিভ স্ট্রাটেজি” কথা বলেন। আলোচনায় আরও উঠে আসে ’ডিজাইন থিংকিং, ক্রিটিকাল থিংকিং, স্কুল লিডারশিপ সাপোর্ট, পারসোনালাইজড লানিং, স্টুডেন্ট জেনারেটেড কোশ্চেন সাপোর্ট, কালচারালি রেসপনসিভ পেডাগোজি এবং টেকনোলজি প্ল্যাটফরম এর মতো বিষয়গুলো.

কনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন এনওয়াইআইটি এর রিসার্চ এসিস্ট্যান্ট বাংলাদেশের কাজী নিশাত তারানা তরুণ শিক্ষা গবেষক তারেক মেহ্দী যিনি বর্তমানে ভার্জিনিয়ার সবচেয়ে বড় রিসার্চ ইনসটিটিউট জর্জ মেসন ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি ফেলো হিসেবে আছেন। এই বাংলাদেশী তরুনরা এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের নেয়া নানাবিধ উন্নয়ন বান্ধব কর্মসূচী নিয়ে কথা বলেন ও আলোচনা করেন।

মিশেল শু, বর্তমানে লোকাস্ট হাই স্কুলে অধ্যয়নরত তরুণ ছিলেন এই কনফারেন্সের একজন তরুন কো-চেয়ার। মিশেল এই অনুষ্ঠানে মডেল ইউনাটেড নেশন এর ফরম্যাট অনুসরণ করে একটি সেশন পরিচালনা করেন এবং বলেন, যেকোন বয়সের তরুনরাই সমাজের জন্য অত্যন্ত পজিটিভ ও একটা শক্তি। তারা তাদের মেধা, মনন ও কাজের স্পৃহা দিয়ে এ পৃথিবীতে কাঙ্খিত পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে। তরুনরা খুব সহজেই তাদের বন্ধু, পরিবার ও কমিউনিটির মানুষগুলোর সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে পারে যা সমাজে কাঙ্খিত পরিবর্তর নিয়ে আসার জন্য অন্যতম মূল শর্ত। তরুণরা খুব সহজেই বিভিন্ন সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির কাজে অংশগ্রহণ করতে পারে। তাই আমাদের উচিত এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তরুণ প্রজন্মের এই শক্তিকে কাজে লাগানো কেননা পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশই আমাদের মতো তরুণ। তরুণদের সাহায্য নিয়ে আমরা গ্লোবাল গোল সবার জন্য শিক্ষা অর্জন করতে পারবো।

 

কনফারেন্স শেষ হয় একটি এ্যাওয়ার্ড গালা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। অনুষ্ঠানে ইউনেস্কো গ্লোবাল এডুকেশন এর পক্ষ থেকে এনওয়াইআইট এর টিচার এডুকেশন ডিপার্টমেন্টকে এডুকেশন সল্যুশন স্টেকহোল্ডার পার্টনারশীপ এ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়। সবশেষে ড. শু সকল কীনোট স্পিকার, ‍স্পন্সর, কনফারেন্সে উপস্থিত সকল দেশের প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান এবং হেলেন কেলার এর বিখ্যাত উক্তিটি বলেন- “Alone we can do so little, together we can do so much.”



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

China Scholarship bd

Somoy-Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis. © All rights reserved  2018 somoytribune.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com