বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০১:১০ পূর্বাহ্ন

দলের স্বার্থে যে কোন চ্যালেন্জ নিয়ে কাজ করতে চাই

দলের স্বার্থে যে কোন চ্যালেন্জ নিয়ে কাজ করতে চাই

চৈতালী হালদার চৈতী খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার রাজনগর গ্রামের মেয়ে। বাবা শিক্ষক, মা আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সরাসরি যুক্ত।
আসন্ন সম্মেলনে দুইটি শীর্ষপদের একটি চৈতালী হালদার চৈতির প্রত্যাশা । বর্তমানে কেন্দ্রীয় দলে সহ-সভাপতি পদের দায়িত্বে আছেন ।

তার স্বপ্ন আওয়ামীলীগের একজন আদর্শ নেত্রী হয়ে মুক্তি যুদ্ধের চেতনা নিয়ে দেশের জন্য আজীবন কাজ করা। তাই তিনি নিরলস ভাবে কাজ করে চলেছেন।চৈতালী হালদার চৈতী অনার্স ও মাস্টার্স দুটোই শেষ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ে । থাকছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলে। ছোটবেলা থেকে পারিবারিকভাবেই রাজনীতিতে অংশগ্রহণ।

ছাত্রজীবনের শুরুতেই নিজেকে জড়ান ছাত্রলীগের বিভিন্ন কার্যক্রমের সাথে। শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক জীবনের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে বর্তমান রাজনীতিতে নারীর ক্ষমতায়ন এবং দলে নারীদের মূল্যায়নসহ রাজনীতির নানা বিষয় নিয়ে সময় ট্রিবিউনের মুখোমুখি হয়েছেন চৈতি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মো. শাহআলম।

রাজনীতিতে যুক্ত হবার শুরুর কথা জানতে চাই…

চৈতালী হালদার চৈতী: আমার ছাত্র রাজনীতির সম্পৃক্ততা শুরু খুলনাতে। বাবা-মা দুজনই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। মা সরাসরি আওয়ামীলীগ রাজনীতির সাথে যুক্ত হলেও বাবা সরকারী চাকরি করার কারণে যুক্ত না হলেও দলের জন্য কাজ করেন। আমি ও খুলনায় থানা ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনীতির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িয়েছি। বর্তমানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছি।

আপনার পারিবারিক রাজনীতির ইতিহাস কি?
চৈতালী হালদার চৈতী:আমার মা খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য। বর্তমানে তিনি খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা মহিলালীগের সভাপতি। দাদু ১৯৭২-এ বঙ্গবন্ধুর সময় ইউনিয়ন পরিষদ কাঠামোর রিলিফ চেয়ারম্যান ছিলেন।
তখন থেকেই এলাকার মানুষ দাদুকে ভালোবাসতেন। এরপর আমার মা। আমার জন্মের আগ থেকেই তিনি আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আওয়ামীলীগের সভাপতি। পাশাপাশি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি।
আমি রাজনীতিতে আসার অনুপ্রেরণা আমার দাদু আর মার কাছ থেকেই পেয়েছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হওয়ার পর কে আপনাকে রাজনীতি অঙ্গনে পরিচয় করিয়ে দেয়?

চৈতালী হালদার চৈতী: মৈত্রী হলের সভাপতি কামিনী আপুর হাত ধরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমার রাজনীতি পথচারনা। তিনি সবার সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দেন।

আগামী সম্মেলনে আপনার প্রত্যাশিত কি?

আমি বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি পদে নেতাকর্মীদের জন্য কাজ করছি। আমাকে যদি সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়, আমি দায়িত্বশীলতার সাথে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করবো।
সহ-সভাপতি থাকাবস্থায় কার্যক্রম সম্পর্কে কি কি দায়িত্ব পালন করেছেন?
চৈতালী হালদার চৈতী: আমি সহ-সভাপতি পদে থেকে দেশরত্নের ঘোষিত কর্মসূচিগুলোতে অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি এবং সেগুলোর সাথে সম্পৃক্ত থেকেছি। আমি আমার জায়গা থেকে একবিন্দু পরিমাণও সংগঠনের কোনো কাজের বাইরে থাকিনি। সব সময় সংগঠনের সাথে নিজেকে নিয়জিত রেখেছি। আমাদের মেয়েদের যদি কখনো কোনোরকম অসুবিধা হয়েছে কেউ আমাকে জানালে বা আমার চোখের সামনে হলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করেছি এবং পাশে দাঁড়িয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে সিটের সমস্যা হলে শিক্ষকদের অনুরোধ করে ভাই-বোনদের সহযোগিতা করেছি। অনেক ভাই-বোন অসুস্থ হলে তাদের সহযোগিতা করেছি। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাথেও আমার সম্পর্ক খুবই ভালো। ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পর্যন্ত আমাকে ফোন করে, আমার সাথে দেখা করে সমস্যার কথা জানায়। তারাও বলে, আমার নেতৃত্ব তারা চায়। তারা সব সময়ই আমার পাশে আছে এবং সব কাজেই সহযোগিতা করবেন।

সংগঠন থেকে কেমন অনুপ্রেরণা বা সহযোগিতা পাচ্ছেন ?

চৈতালী হালদার চৈতী: এমন প্রশ্নের জবাবে এই নেত্রী বলেন, আমি শীর্ষ পদে আসতে চাই, এটা যেন অনেকের মাঝেই প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। কারণ তারা চায় নারীরা কেন পিছিয়ে থাকবে। যেহেতু ছাত্রলীগ বৃহৎ সংগঠন। এখানে নারীদের অংশগ্রহণও বেশি। এখানে ছেলেমেয়েকে কেউ আলাদা করে দেখে না। এখানে যে যোগ্য এবং আন্তরিক তাকেই নেতৃত্বে দেখতে চায়। আমি সব সময়ই কর্মী-বান্ধব থাকার চেষ্টা করি। কেউ কোনো সমস্যা নিয়ে আসলে আমি তার কথা শুনি, সমাধান করার চেষ্টা করি। সেজন্য সারা বাংলাদেশের নেতাকর্মীরাই আমার প্রতি অনুরাগী। তারা চায় আমি যেন নেতৃত্বে আসি। নেতৃত্বে না আসলেও তারা সামনের দিনে আমাকে আরও ভালো জায়গায় দেখতে চায়।
আগামী দিনে শীর্ষ পদে নেতৃত্ব আসলে ছাত্রলীগকে নিয়ে নতুনভাবে কি স্বপ্ন দেখবেন ?

চৈতালী হালদার চৈতী:এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি সর্বপ্রথম ছাত্রলীগের মধ্যে শৃঙ্খলার দিক থেকে আরও বেশি শক্তিশালী করার চেষ্টা করবো। ছাত্রলীগ যেন সুশৃঙ্খল হয়ে আরও ইতিবাচক কাজ কীভাবে করতে পারে, ছাত্রদের উন্নয়নে কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে সে বিষয়টি নিয়ে বিশেষভাবে কাজ করবো। সারাদেশে মেয়েদের অন্তর্ভুক্তি কীভাবে আরো বাড়ানো যায় সেক্ষেত্রেও কাজ করবো। এমনিতেও মেয়েদের অন্তর্ভুক্তি আছে, কিন্তু কোথাও মেয়েদের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক করা হয় না। আমি যদি নেতৃত্বে আসি, তবে সে বিষয়টি নিয়েও কাজ করবো।
অনেক ক্ষেত্রেই ছেলেদের থেকে মেয়েরা এগিয়ে আছে। মেধা, কর্মক্ষেত্রসহ সব ক্ষেত্রেই মেয়েরা এগিয়ে আছে। কোথাও নারীরা পিছিয়ে নেই। তাহলে আমাদের ছাত্রলীগের নেতৃত্বের বেলা কেন নারীরা পিছিয়ে থাকবে? নারীরা যোগ্য, নারীদের ন্যায্য অধিকার দেয়া হলে তারা এগিয়ে আসবে। সেক্ষেত্রে বড় সমাজের বড় পরিবর্তন আসবে। নারী নেতৃত্বে আসা মানে শুধু নেতৃত্ব নয়, সার্বিক সমাজের একটা পরিবর্তন। তখন ন্যায্য অধিকার নিয়ে কথা বলতে পারবে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারবে, নিজের আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে। নারী এবং পুরুষ সমানে সমানে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শক্তিদের ছাত্রলীগে সম্পৃক্ত করা, একইসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কেউ যেন এ সংগঠনে প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে খেয়াল রাখবো।’
জাতির পিতাকে যারা জানে, যারা বোঝে তারাই যেন ছাত্রলীগের সৈনিক হয়। এমনিতেই ছাত্রলীগ জাতীয় নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে সেটিকে আরো সুগঠিত, শক্তিশালী এবং সুশৃঙ্খলভাবে নির্বাচনে বিজয়ের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে সেদিকটা নিয়ে কাজ করবো। সর্বোপরি তৃণমূলের জন্য কাজ করবো। তৃণমূলে যেন শৃঙ্খলা আরো বেশি থাকে, আরো বেশি সুগঠিত হয় এবং তরুণদের ছাত্রলীগে অন্তর্ভুক্তি করার ক্ষেত্রে আমি বেশি কাজ করতে চাই।’মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শক্তিদের ছাত্রলীগে সম্পৃক্ত করা, একইসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কেউ যেন এ সংগঠনে প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে খেয়াল রাখবো।’
জাতির পিতাকে যারা জানে, যারা বোঝে তারাই যেন ছাত্রলীগের সৈনিক হয়। এমনিতেই ছাত্রলীগ জাতীয় নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে সেটিকে আরো সুগঠিত, শক্তিশালী এবং সুশৃঙ্খলভাবে নির্বাচনে বিজয়ের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে সেদিকটা নিয়ে কাজ করবো। সর্বোপরি তৃণমূলের জন্য কাজ করবো। তৃণমূলে যেন শৃঙ্খলা আরো বেশি থাকে, আরো বেশি সুগঠিত হয় এবং তরুণদের ছাত্রলীগে অন্তর্ভুক্তি করার ক্ষেত্রে আমি বেশি কাজ করতে চাই।’

আগামীর জাতীয় রাজনীতি নিয়ে আপনার ভাবনা কি?

চৈতালী হালদার চৈতী:ছাত্র রাজনীতি হচ্ছে শিক্ষানবিশ কাল। বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে এখন যারা প্রতিষ্ঠিত তারা অধিকাংশই ছাত্র রাজনীতি করে এসেছেন। আমি আমার দলের জন্য আজীবন কাজ করতে চাই। আমি বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি। দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে ভালোবাসি। দল যদি কোন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আমাকে বিবেচনা করেন তাহলে অবশ্যই দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাবো। আর যদি দল আমাকে যোগ্য নাও মনে করে, তাহলেও দলের একজন কর্মী হয়ে আজীবন দলের জন্য কাজ করে যাব।
টেন্ডারবাজি, হলের সিট-বাণিজ্য, ছাত্রলীগ নিয়ে নেতিবাচক ধারণা। নেত্রী হিসেবে কি বলবেন?

চৈতালী হালদার চৈতী:বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঐহিত্যবাহী সংগঠন। বাংলাদেশের জন্ম, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই সংগঠনটির ইতিহাস। দেশজুড়ে সংগঠনটির কার্যক্রম ছড়িয়ে আছে। ফলে সারাদেশে বিচ্ছিন্নভাবে যেখানে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে সেখানে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, ছাত্রলীগ মেধাবীদের জায়গা। এখানে সন্ত্রাসীরা যুক্ত হতে পারবেন না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ সোচ্চার আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।

আপনি তো বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত…?


চৈতালী হালদার চৈতী:সাংস্কৃতিক বোধ একজন মানুষকে পরিশীলিত করে। ভীষণ ভাবে পরিশীলিত করে। একজন সাংস্কৃতিক চেতনা ধারণকারী আর আর সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেক তফাৎ। আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশে কোন সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন হবে না। এবং বর্তমানে জঙ্গিদের যে তৎপরতা আমরা দেখছি এটা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড করার মধ্য দিয়ে তরুণ সমাজকে আমরা এর মধ্য বের করে আনতে পারবো। সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে উঠবে।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

China Scholarship bd

Somoy-Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis. © All rights reserved  2018 somoytribune.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com