বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন

অশুভ সিন্ডিকেট মুক্ত হচ্ছে ছাত্রলীগ, নেতা নির্বাচন করবে শেখ হাসিনা

অশুভ সিন্ডিকেট মুক্ত হচ্ছে ছাত্রলীগ, নেতা নির্বাচন করবে শেখ হাসিনা

সিনিয়র প্রতিবেদক,

অবশেষে বাংলাদেশ ছাত্রলীগে অদৃশ্য সিন্ডিকেটের কালো থাবা থমকে পড়েছে। বিষয়টা নিয়ে ছাত্রলীগের ভেতরে বাইরে স্বস্তির নিঃশ্বাস বইতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার হুকুম বাস্তবায়নের জন্য ছাত্রলীগে নতুন ৬ জন কাজ করতে শুরু করেছেন। এমনটা নিশ্চিত করেছে আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী সূত্র।

বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগের ২৯ তম জাতীয় সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর পরই সেই অদৃশ্য অশুভ সিন্ডিকেট দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে ধারণা পোষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ছাত্রলীগের একজন সাবেক সভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক যিনি বিদেশে অবস্থান করছেন তারাই মূলত ছাত্রলীগের অদৃশ্য সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছিলেন। ২৮ তম সম্মেলনের আগেও সেই সিন্ডিকেটের অশুভ ছায়া থেকে বেরিয়ে আসার কথা বলেছিলেন ছাত্রলীগের অভিভাবক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু সিন্ডিকেটের একজন সদস্য সেই কথা রাখেননি। তাই তাকে প্রবাসে থাকতে হচ্ছে বলেও মনে করেন অনেকে।

আগামী ১১-১২ মে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এই সিন্ডিকেটের কোনো প্রভাব থাকবে না এমনটা নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ মহল। এবার শেখ হাসিনার সরাসারি পছন্দের ছাত্র নেতারাই শীর্ষপদে আসছেন। এর কোনো ব্যতয় হবে না। সেক্ষেত্রে বয়সের বিষয়টিও নির্ধারণ করবেন শেখ হাসিনা নিজেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে, যে যত কথাই বলুন। এবার যেকোনো মূল্যে ছাত্রলীগের অশুভ সিন্ডিকেট ভাঙতেই চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ কারণেই তিনি মাঠ পর্যায়ে যারা পরিচ্ছন্ন, যাদের পারিবারিক আওয়ামী রাজনীতির ঐহিত্য রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারি অথবা মাদক ব্যবসায়ের যৌক্তিক কোনো অভিযোগ নেই, তাদের মধ্য থেকেই নেতা নির্বাচন করা হবে।

নতুন সিন্ডিকেট কেমন হবে এমন প্রশ্নের জবাবে ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে থাকা সাবেক ছাত্র নেতারা বলেছেন, একজন সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে ছাত্রলীগ জিম্মি থাকতে পারে না। ব্যক্তিস্বার্থে ছাত্রলীগকে যারা ব্যবহার করেছে তাদের বিষয়ে নেত্রী (শেখ হাসিনা) কোনো ছাড় দিতে চান না। তাই এবার তিনি ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য ৬ জনকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তাদের তালিকা থেকেই যাচাই বাছাই করে নেতা বানাবেন। এক্ষেত্রে বয়স কোনো ব্যাপার হবে না। অধিকতর যোগ্য এবং মেধাবি সংগঠক এবং যাদের মধ্যে ছাত্রলীগের প্রতি আদর্শিক জায়গায় কোনো সমস্যা নেই, যাদের পরিবারের বিরুদ্ধে জায়ামাত-বিএনপি করার কোনো অভিযোগ নেই; তারাই উঠে আসবেন নেতৃত্বে।

ছাত্রলীগের ৬ জনের নতুন দৃশ্যমান সিন্ডিকেটের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এনামুল হক শামীম, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মারুফা আক্তার পপি। তারা প্রত্যেকেই ছাত্রলীগের শীর্ষপদে ছিলেন।

এদিকে, ছাত্রলীগের সম্মেলনের তারিখ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষণা করা হলেও তারিখ পরিবর্তনের সংশয় এখনো কাটেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী সংগঠনের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করেন। তবে সংগঠনের একটি গ্রুপ এখনো সম্মেলন ঠেকানোর জন্য তৎপর। এ ছাড়া সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের একটি প্রভাবশালী অংশও এ ব্যাপারে যারপরনাই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। তবে কোনোভাবে এই সম্মেলনের তারিখ পরিবর্তন হবে না বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন নেতা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক দুই ছাত্রনেতা জানান, সম্মেলনবিরোধী সংগঠনের কয়েকজন নেতা ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে কিছু বিষয় উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যুক্তি হিসেবে তারা ১৫ মে খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচন, ১৬-১৭ তারিখে রমজান শুরু এবং চলমান অন্তর্কোন্দলকে দেখানোর চেষ্টা করবেন। এতসব ইস্যু পাশ কাটিয়ে সম্মেলন দিলে সংগঠনের মধ্যে বিরোধী গ্রুপ আরও চাঙা হয়ে উঠতে পারে। এই বিরোধিতায় আগামী নির্বাচনে কর্তব্যরতদের মধ্যে দায়িত্ব পালনে অবহেলা-অনীহা দেখা দিতে পারে।
এ বিষয়ে অবশ্য ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমানের ভাষ্য ভিন্ন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার এক আঙুলের নির্দেশনায় চলে ছাত্রলীগ। এখানে অন্য কারো কথা চলে না। সুতরাং কে কোথায় কী বলছে, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আর যতসব গল্প মাঠে-ময়দানে ছাড়াচ্ছে, তার জবাবে আমি শুধু এটুকু বলব শেখ হাসিনার জন্য এসব মোকাবিলা কোনো ব্যাপার নয়।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি এনামুল হক শামীমের বক্তব্যও ভিন্ন নয়। তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ছাত্রলীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর এমন আশঙ্কার কোনো কারণ নেই। আমি মনে করি শান্তিশৃঙ্খলভাবে সম্মেলন হবে।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

China Scholarship bd

Somoy-Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis. © All rights reserved  2018 somoytribune.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com