বুধবার, ১৮ Jul ২০১৮, ০১:২৫ পূর্বাহ্ন

বিএনপি জামাতের প্রভাবশালী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রন করে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়

বিএনপি জামাতের প্রভাবশালী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রন করে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়

বিএনপি জামাআতের মতাদর্শিরা যদিও প্রকাশে তেমন দেখা যায় না কিন্তু থেমে নেই তাদের কার্য্যকলাপ। কোথায় গোপনে আবার কোথায় নব্য আওয়ামীলীগ সেজে। এই রকমই দৃশ্য দেখা যায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। জানা যায়, বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে ও বিদেশে কর্মসংস্থান শুধুমাত্র দেশের বেকারত্ব হ্রাসই করে না, একই সাথে বিদেশে কর্মরত প্রবাসীদের প্রেরণকৃত রেমিটেন্স দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কিন্তু প্রশংসনীয় কাজকে বিতর্ক করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে প্রভাবশালী নব্য আওয়ামীলীগ সেজে বিএনপির জামাত শিবিরের নেতাকর্মীরা।

সময় ট্রিবিউনের অনুসন্ধানেএমনই অবাক হওয়ার মতই তথ্য পাওয়া যায় জানা যায়।

, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজবির রহমানের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও কর্মী প্রেরণ বিষয়ে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশসমূহের সাথে সমঝোতা সৃষ্টি হয়।

তারই ধারাবাহিকতায় সত্তর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহে বাংলাদেশি কর্মী গমন শুরু হয়। বাংলাদেশ এ পর্যন্ত বিশ্বের ১৬০টি দেশে প্রায় ৯০ লক্ষ কর্মী প্রেরণ করেছে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করে বাংলাদেশ সরকার ২০০১ সালের ২০ ডিসেম্বর তারিখে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান নামে একটি পৃথক মন্ত্রণালয় স্থাপন করে। এ মন্ত্রণালয় জানা গঠনের উদ্দেশ্য হলো প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সম্প্রসারণ।

রেমিটেন্সের প্রবাহ বৃদ্ধি এবং দেশের সকল অঞ্চল হতে কর্মীদের বিদেশে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে সকল অভিবাসী কর্মীর কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। মন্ত্রণালয় গঠনের পরে প্রবাসীদের কল্যাণে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যাহা সর্বমহলে প্রসংশিত হয়েছে।

যেমন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, বোয়েসেল এবং কল্যাণ বোর্ড গঠনের মাধ্যমে প্রবাসী এবং গমনেচ্ছুকদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা এবং সেবার মান বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখার নিমিত্তে রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধিসহ যথেষ্ট ভূমিকা সুনামের সহিত পালন করে আসছে। কিন্তু কিছু অসাধু কর্মকর্তা এবং রিক্রুটিং এজেন্সীর যোগসাজসে উক্ত মন্ত্রণালয়ের সুনাম এবং অর্জন মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম-সচিব এবং পরিচালক (বহিঃগমন) এর মাধ্যমে গড়ে উঠেছে এক বিশাল শক্তিশালী সিন্ডিকেট। উল্লেখ্য, মন্ত্রী এবং সচিব এর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতানৈক্য সৃষ্টি হলে যুগ্ম সচিব তাজুল ইসলাম এবং পরিচালক (বহিঃগমন) আতিকুর রহমানের সিন্ডিকেট সচিবের পক্ষাবলম্বন করেন এবং সরকারের এই উইংসকে চিরতরে ধ্বংসের ফন্দি করেন। তারই অংশ হিসেবে এই চক্র অসত্যায়িত ভিসায় কোন কর্মীকে বহির্গমন স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে না এই মর্মে ব্যাখ্যা প্রদান করেন। যা সচিব গ্রহণ করেন এবং সকল দেশের অসত্যায়িত ভিসায় কর্মীদের বিদেশ যাওয়া বন্ধ করে দেন।

যা দেশের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। উল্লেখ থাকে যে, এতে করে সরকার প্রতি কর্মীর নিকট থেকে ফি বাবদ ৪,৩০০/- (চার হাজার তিনশত) টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে বিভিন্ন চড়াই উৎরাই অতিক্রম করে রিক্রুটিং এজেন্সী ভিসা ক্রয় করে কর্মীদের নিকট থেকে অগ্রীম টাকা নিয়ে অসত্যায়িতের নামে চরম হয়রানীর শিকার হয় যাত্রীরা।

ফলে যাত্রীর নিকট থেকে অতিরিক্ত ৩০-৫০ হাজার টাকা নিয়ে ইমিগ্রেশন (বিমানবন্দর) কন্ট্রাক্ট করে অবৈধভাবে উপায়ন্তর না পেয়ে বিদেশ পাঠাচ্ছে। কিন্তু এতে করে বিদেশে কর্মরত অবস্থায় যদি কোন যাত্রীর মৃত্যু হয় বা কোন ক্ষতি হয় তাহলে সরকারের কাছে কোন রেকর্ড না থাকায় ঐ যাত্রী সকল সরকারী সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অতএব, সরকার ভ্যাট-ট্যাক্স এবং ফি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যাত্রী অতিরিক্ত ৩০-৫০ হাজার টাকা রিক্রুটিং এজেন্সীকে প্রদান করছে, রেকর্ড না থাকায় কর্মীগণ সরকারী সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ফলে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে, সর্বপরি হয়রানী না পোহাতে পেরে রিক্রুটিং এজেন্সি নতুন বাজার সৃষ্টির ক্ষেত্রে বিমুখ হয়ে অন্য ব্যবসায় মনোনিবেশ করছে।

এই চক্র সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বিএনপি-জামায়াতের উদ্দেশ্যে বাস্তবায়ন করছে। ২০১৭ সালে ১০ লক্ষ কর্মী বিদেশে প্রেরণ করা হয়েছে এবং এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল এটা। কিন্তু আতিকুর রহমান পরিচালক ভারমুক্ত হওয়ার পরে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্টের বিভিন্ন পায়তারা করেন। উল্লেখ্য, ভিসার মেয়াদ থাকে সর্বোচ্চ তিন মাস।

কিন্তু সংশ্লিষ্ট এম্বাসী কর্তৃক সত্যায়িত হয়ে আসতে ততক্ষনে ভিসার মেয়াদ প্রায় শেষ হয়ে যায়। এই দুর্বলতার কারণেই এই চক্র সচিব নমিতা হালদারকে ভুল বুঝিয়ে সরকারের ভাবমুর্তি নষ্ট করার পায়তারা করছে। কে এই তাজুল-আতিক? মো, তাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, যুগ্ম সচিব- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। বি.এন.পি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে কুমিল্লার ম্যাজিস্ট্রেট এবং এডিসির দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি সাবেক মন্ত্রী কর্নেল আকবর সাহেবের একনিষ্ঠ এবং হাওয়া ভবন কেন্দ্রীক বিভিন্ন নেতার আশির্বাদপুষ্ঠ ছিলেন। বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালীন আওয়ামী লীগ নেতা এবং বর্তমান সংসদ সদস্য আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহার, কুমিল্লা-৬ এর সাথে দলীয় কর্মীদের জামিন মঞ্জুর না করার কারণে বিভিন্ন সময়ে তৎকালীন জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট তাজুল ইসলামের সাথে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারন করে। তৎকালীন সময়ে আওয়ামী লীগের সকল নেতৃবৃন্দ তাজুল ইসলামের বিএনপি প্রীতি সম্পর্কে চাউর আছে এলাকায় ।

তাহার গ্রামের বাড়ী ব্রাহ্মণবাড়ীয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) ঐ আসনের সংসদ সদস্য মন্ত্রী আনিসুল হকের সাথে তার দহরম মহরম সম্পর্ক আছে বলে নিজেই প্রচার করেন এই সুবিধাবাদী নব্য আওয়ামীলীগ। এমনকি জনপ্রশাসন মন্ত্রীর পি.ও জীবন সাহেবের সাথে তার বন্ধুত্ব সম্পর্কের কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের অনেক নেতাকেই বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখান। এমনকি প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মকর্তাকে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে ধমক দিয়ে থাকেন অনেক সময় অহংবোধের সাথে তিনি বলেন “জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আমার পকেটে”।

এই কারণে মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মকর্তা তাকে সমীহ করে এবং তার ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকেন। মন্ত্রণালয়ের তার একটি নিজস্ব বলয় সৃষ্টি করে জনশক্তি খাতকে লুটপাট করে কোটি কোকি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের আয়ের এই স্তম্ভকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে। তার এই নিজস্ব সিন্ডিকেটে প্রধান নেতৃত্বকারী আতিকুর রহমান, পরিচালক (বহিঃগমন)।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন বিএনপি-জামায়াতের ক্ষমতার সময় ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অন্যতম সদস্য ছিলেন এবং তার গ্রামের বাড়ী বগুড়ার কাহালুতে হওয়ায় তারেক জিয়া এবং হাওয়া ভবনের সাথে তার দহরম মহরম সম্পর্কের কথা ওপেন সিক্রেট। এই চক্র নিজস্ব সিন্ডিকেট তৈরী করে বর্তমান সচিব নমিতা হালদারকে ভুল বুঝিয়ে গোপনে বিভিন্ন দেশের অসত্যায়িত ভিসা তাদের মনোনীত রিক্রুটিং এজেন্সীর মাধ্যমে ফাইলিং করে নিয়ম বহির্ভূতভঅবে স্মার্ট কার্ড করে দিয়ে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

China Scholarship bd

Somoy-Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis. © All rights reserved  2018 somoytribune.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com