রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৮:৩২ অপরাহ্ন

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঢাবি ছাত্রলীগের পঞ্চাশ নেতার সমর্থন

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঢাবি ছাত্রলীগের পঞ্চাশ নেতার সমর্থন

সরকারি চাকরির নিয়োগে ৫৬% কোটাকে ১০% এ নামিয়ে আনার দাবিতে চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিভিন্ন হল শাখা ও বিভাগ ছাত্রলীগের প্রায় ৫০জন ছাত্রলীগ নেতা।

তারা এ সমর্থন জানিয়ে কোটা সংস্কার চাই গ্রুপে পোস্ট দিয়েছেন। এই গ্রুপটির মাধ্যমেই সংস্কার আন্দোলন মূলত সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এই আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন নিজেও মুহসিন হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমর্থনে দেয়া ছাত্রলীগ নেতাদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট নীচে হুবুহু তুলে ধরা হলো

। জয় তালুকদার লিখেছেন আমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি তথা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবাহী, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের গর্বিত সৈনিক হিসেবে আমি একথা দৃপ্তভাবে বলতে চাই যে, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার বাংলাদেশকে উন্নতির সর্বোচ্চ শিখরে উন্নীত করতে প্রজাতন্ত্রের সকল স্তরে প্রকৃত মেধাবী তরুণ প্রজন্মের বলিষ্ঠ অবদান অত্যাবশ্যক।

#কোটা_সংস্কার_চাই আবু জাফর সোহাগ লিখেছেন , অামি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বলছি।#কোটা সংস্কার চাই। অামি অাপনাদের সাথে অাছি, ১৯৪৮ সাল থেকে ছাত্রলীগ সব সময় সাধারণ ছাত্রদের যৌক্তিক দাবির সাথে অাছে। আহমেদ ইমতিয়াজ শুভ্র লিখেছেন, অামি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ,হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১নং সাংগঠনিক সম্পাদক বলছি, কোটা সংস্কার আন্দোলনে শুরু

থেকে ছিলাম এখনও আছি।দেশের ১জন সচেতন নাগরিক হিসেবে,বর্তমান সময়ে এটা অত্যন্ত যৌক্তিক দাবি বলে আমি মনে করি। বৈষম্য করা এবং বৈষম্যকে সমর্থন করা নীতিগত বলে আমি মনে করি না। এমন যৌক্তিক অহিংস আন্দোলনে অামি ছাত্রজনতার সাথে অাছি এবং থাকবো।। হেলাল মাহমুদ লিখেছেন, আমি সাধারণ সম্পাদক, ব্যাংকিং ও বীমা বিভাগ ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় । #কোটা সংস্কার চাই।

আপনাদের সাথে আছি, ন্যায্য দাবি আদায়ে ছিলাম, আছি এবং থাকব, আগামী ২৫ তারিখ খালি গায়ে, পিঠে ও বুকে দাবি সমুহ লিখে হাজির হব ইনশাল্লাহ। দ্বীপ চাকলাদার আকাশ লিখেছেন। আমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আনন্দ মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখার যুগ্ন-আহবায়ক বলছি। আমি কোটা সংস্কারের দাবী কে পূর্ণ সমর্থন করি এবং আমি কোটা সংস্কারের দাবীতে রাজপথের একজন আন্দোলনকারী। সকল সাধারন শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবী আদায়ের সংগ্রামে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকে ছিল, এখনও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। “বঙ্গবন্ধুর বাংলায় কোটা বৈষম্যের ঠাই নাই”। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। প্রিন্স এনামুল হক, সহ সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ লিখেছেন, যারা কোটা সংস্কারকারীদের ঢালাও শিবির বলেন, তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী।এরা মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে ব্যবসা করতে চায়।এরা পাকিস্তানী মনোভাবে বেড়ে উঠেছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিলো একটা জনযুদ্ধ। তাই, রাজাকার-আলবদর ছাড়া এদেশের সকলেই মুক্তিযোদ্ধা। আহসান হাবীব লিখেছেন, অামি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ,

অমর একুশে হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলছি। #কোটা সংস্কারকে পুরাপুরি সমর্থন করছি।ছাত্রলীগ সব সময় সাধারণ ছাত্রদের যৌক্তিক দাবির সাথে অাছে। সাইদুর রহমান লিখেছেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার’দা সূ্র্যসেন হল ছাত্রলীগ এর “পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ” আমি এই বৈষম্যমমূলক কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি জানাই।আর হ্যা আমি রাজাকার না কিংবা আমার পরিবারও রাজাকার না, আমার বড় ভাই একটি সরকারি কলেজের ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। বাংলাদেেশর উন্নয়নের ধারাবাহীকতা অব্যাহত রাখতে মেধার মূল্যায়ন করতে হবে।তাই আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা’কে অনুরোধ করছি আপনি কোটা ব্যবস্থার সংস্কার করুন।প্রিয় নেত্রী মমতাময়ী মা এটাই উপযুক্ত সময় আপনি কোটা সংস্কার করে আবারও প্রমাণ করে দেখিয়ে দিন যে বিশ্ব দরবারে আপনি শুধু ‘মানবতার মা’ হিসেবেই খ্যাত নন আপনি সারা বাংলার লক্ষ লক্ষ অবহেলিত শিক্ষিত বেকারেরও মা।

রাইহান রাহী। ধাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রলীগনেতা। তিনি এই আন্দোলনে সংগঠক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সম্মানিত শিক্ষক ড. শরিফুল ইসলাম স্যার কোটা সংস্কার আন্দোলন কে সর্বাত্ত্বক ভাবে চালিয়ে নিতে বলেছেন। তিনি এই অযৌক্তিক ব্যবস্থার কঠোর নিন্দা করেন।এমন শিক্ষক ই তো আমরা চাই যারা ছাত্রদের মনের কথা পড়তে পারে। নাজমুল হাসান, সভাপতি শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ ছাত্রলীগ , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি লিখেছেন, কোটা সংস্কার এখন বাংলার ছাত্রসমাজের প্রাণের দাবি। এ দাবি পূরণ হবেই ইনশাআল্লাহ। প্রথম থেকেই আন্দোলনে আছি। বৈষম্যকে সমতায় রূপান্তর করেই ঘরে ফিরতে হবে।

মনিরুজ্জামান মনির লিখেছেন, অামি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমেটির একজন সদস্য, ঢাকা কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে বলছি, #কোটা সংস্কারকে পুরাপুরি সমর্থন করছি। ছাত্রলীগ সব সময় সাধারণ ছাত্রদের যৌক্তিক দাবির সাথে অাছে। এদিকে আন্দোলনের শুরু দিকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন, “কোটা সংস্কার” আন্দোলন কে ছাত্রলীগ’র সমর্থন দেয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

ওদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে বিষয়টি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর করা উচিত। আমার বিশ্বাস কোটা সংস্কার করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,এই ছাত্রনেতা আরো লিখেছেন, আওয়ামীলীগ এবং ছাত্রলীগ সর্বসাধারণ’র নিকট আরো বেশি গ্রহনযোগ্যতা পাবে। আর ছাত্রদের ন্যায্য দাবীতে সমর্থন দেয়া ছাত্রলীগের নৈতিক দায়িত্ব। আর একটি বিষয় হচ্ছে তরুণদের ক্ষোভ বারবার দমন করা ঠিক হবে না।

আর তরুণদের ক্ষোভের অনল জ্বলে উঠলে কিন্তু এর খেসারত পুরো দেশকেই দিতে হবে। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে উল্টাপাল্টা না বুঝিয়ে, অত্যধিক তৈল না দিয়ে, দল ও দেশের জন্য প্রিয় নেত্রীর কাছে বাস্তবতা তুলে ধরুন! এছাড়াও, ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ রকিবুল ইসলাম রকিব বলেছেন, এই কোটা সংস্কার আন্দোলনে তার পূর্ণ সমর্থন আছে, আর যে কারণে সে গতকাল সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে গিয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। তিনি আরো বলেছেন, ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ ছাত্রদের সাথে সব সময় আছে ও থাকবে।

আর কোটা সংস্কারের দাবি আদায়ে ছাত্রদের যে কোন ধরনের সহায়তা তার পক্ষ থেকে সব সময় অব্যাহত থাকবে। কারণ এটা যৌক্তিক দাবি, এটা ৯৮% মানুষের প্রাণের দাবি। ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে এ আন্দোলন চলছে। আগামী ২৫ মার্চ ও ২৯ মার্চ তাদের কর্মসূচী রয়েছে। আন্দোলনকারীদের ৫ দফা দাবি হলো-

১।

কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করে ৫৬% থেকে ১০% এ নামিয়ে আসতে হবে, ২। কোটায় কোন রকম বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা নেয়া যাবে না, ৩। চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না, ৪। চাকরির ক্ষেত্রে সবার জন্য অভিন্ন কাট মার্কস ও বয়সসীমা করতে হবে, ৫। কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে, শূন্য পদগুলোতে মেধায় নিয়োগ দিতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের কয়েকবারের নির্বাচিত সাবেক মহাসচিব যোদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা নাঈম জাহাঙ্গীর এবং মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড এর সিনিয়র সহ-সভাপতি জনাব মেজবাহউদ্দিন কোটা সংস্কার আন্দোলনকে স্বাগত জানিয়ে পৃথক পৃথক বিবৃতি দিয়েছেন। বিস্তারিত এখানে



2 responses to “কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঢাবি ছাত্রলীগের পঞ্চাশ নেতার সমর্থন”

  1. মোঃ মোহিবুল হাসান says:

    সুন্দর রিপোর্টের জন্য ধন্যবাদ।
    কিন্তু ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করার আগে ব্যক্তির অনুমতি নিলে ভাল হত না?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

China Scholarship bd

Somoy-Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis. © All rights reserved  2018 somoytribune.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com