বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন

দেশে ভয়াবহ হয়ে উঠছে হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি

দেশে ভয়াবহ হয়ে উঠছে হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি

দেশের বিভিন্ন হাটবাজারে চলছে হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি। প্রায়ই এমন চাঁদাবাজির কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা। গতকাল শুক্রবার ও আজ শনিবার এই দুই দিন উপজেলার রায়গঞ্জ পৌরসভার ধানগড়া বাজার ও চান্দাইকোনা ইউনিয়নের চান্দাইকোনা হাটবাজারে খোঁজ নিয়ে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা হাতির চাঁদাবাজির কথা জানা যায়।

ধানগড়া বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলেন, গতকাল শুক্রবার সকাল থেকেই বাজারের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে পল্লীবিদ্যুৎ কার্যালয়ের মোড় পর্যন্ত প্রতিটি দোকানে দুই জন মিলে একটি বড় হাতি ও একটি ছোট হাতি নিয়ে হানা দেন। দোকান প্রতি কমপক্ষে ১০ টাকা করে আদায় করা হয়। হাতি নিয়ে দোকানের সামনে এসে তারা দাঁড়ান, টাকা না দেওয়া পর্যন্ত সেখান থেকে হাতি সরানো হচ্ছে না। এভাবে টাকা আদায়ের কারণে বিক্রিতেও সমস্যা হচ্ছে।

রাস্তা চলাচলের সময়ে জনসাধারনের কাছ থেকে গাড়ি থামিয়ে টাকা নেয়া হচ্ছে। যা চলাচলে বিরক্তিকর এবং দুর্ভোগ।

 

 

 

 

 

 


ধানগড়া বাজারের ব্যবসায়ী মেহেদি হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাঝে মাঝেই বিভিন্ন এলাকা থেকে হাতি নিয়ে এসে চাঁদা আদায় করা হয়। বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই। গতকাল শুক্রবার বিকেলে উপজেলার চান্দাইকোনা হাট-বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বড় হাতির পিঠে বসে এক জন হাতিটিকে পরিচালনা করছেন। তার এই কাজে সহযোগিতা করছেন তারই এক সহযোগী। প্রতিটি দোকান থেকে হাতি দিয়ে টাকা তোলা হয়। টাকা না দেওয়া পর্যন্ত দোকান থেকে হাতি সরানো হয় না। বাজারের দুই ব্যবসায়ী বলেন, ‘প্রায় প্রতি দিনই অনেক খাতে টাকা দিতে হয়।         বর্তমানে হাতিকেও দিতে হচ্ছে। বিষয়টি খুবই পীড়াদায়ক।’

হাতি পরিচালনাকারী এক জন (মাহুত) বলেন, একটি বড় ও একটি বাচ্চা হাতি নিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে খাবারের জন্য কিছু টাকা নেওয়া হয়। তবে টাকা নেওয়ার সময় কাউকে জোর করা হয় না। লোকজন স্বেচ্ছায় যা দেয়, তাই নেওয়া হয়।

স্থানীয় প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক সংগঠন স্বাধীন জীবন-এর নির্বাহী পরিচালক আবদুর রাজ্জাক বলেন, বনের পশু পালনের জন্য নির্দিষ্ট আইন আছে। সার্কাস দলে পালনের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়। তবে বন্য এসব পশুর যাবতীয় দায়িত্ব মালিকের। এভাবে টাকা আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। বড় হাতি অথবা বাচ্চা হাতি দিয়ে এভাবে টাকা আদায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইকবাল আখতার আজ শনিবার বলেন, এভাবে বন্যপশু দিয়ে টাকা আদায়কারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

China Scholarship bd

Somoy-Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis. © All rights reserved  2018 somoytribune.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com