বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৮, ০৪:৪৭ অপরাহ্ন

কার বাসে কে চড়ে

কার বাসে কে চড়ে

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) পরিবহন সংকট দীর্ঘদিনের। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে বাস মাত্র ১৪টি। যেগুলোতে গাদাগাদি করে যাতায়াত করতে হয় শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাগবে সম্প্রতি একটি নতুন বাস উপহার দেয় প্রাইভেট কোম্পানী। কিন্তু সেই বাসে ওঠার সৌভাগ্য হয়নি শিক্ষার্থীদের।

সেই বাস ব্যবহার করছেন শিক্ষকরা। আর শিক্ষার্থীদের দিয়েছেন তাঁদের ব্যবহার করা পুরোনো বাস।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি তরিকুল ইসলাম বলেন, অনাবাসিক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবহন সমস্যা একটি বড় সমস্যা। ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী পরিবহন সেবার বাইরে। শিক্ষার্থীদের এ সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যথেষ্ঠ নজরদারি দিচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা পরিবহন সমস্যার নিরসনে বারবার আন্দোলন করে। সরকার ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসমুহ শিক্ষার্থীদের পরিবহন সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়কে বাস দেয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সে বাস শিক্ষার্থীদের পরিবহনে যুক্ত না করে শিক্ষকদের পরিবহনে যুক্ত করছে। আমাদের শিক্ষকদের পরিবহন সমস্যা আছে কিন্তু শিক্ষকদের আগে শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধান করতে হবে।

রোববার ম্যাকসন্স স্পিনিং মিলস্ লিমিটেড পক্ষ থেকে উপহার স্বরূপ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি অত্যাধুনিক ৩০ আসন বিশিষ্ট (এয়ার কন্ডিশন) বাস প্রদান করা হয়। বাসটি শিক্ষকদের পরিবহনে যুক্ত করা হবে। এর আগে গত বছর জানুয়ারিতে মেঘনা গ্রুপ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য দুটি বাস দেয় কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাস দুটি শিক্ষকদের পরিবহনে যুক্ত করে।

ম্যাকসন্স স্পিনিং মিলস্ লিমিটেডের বাসের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড.মীজানুর রহমান বলেন, এক বছরের মধ্যে শিক্ষকদের পরিবহন সমস্যা সমাধান হবে বলে জানান। শিক্ষার্থীদের পরিবহনে ব্যাপক সমস্যা থাকলেও তিনি সে বিষয়ে কিছুই বলেননি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদীন রাসেল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবহন সংকট সমাধান না করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষকদের এবং সান্ধ্যকালীন শিক্ষার্থীদের পরিবহন সংকট সমাধানে ব্যস্ত। শিক্ষার্থীদের পরিবহনে ডাবল ট্রিপের জন্য দীর্ঘ দিন দাবি জানানো হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সান্ধ্যকালীন শিক্ষার্থীদের জন্য বাস চালু করছে, যা নজির বিহীন। দেশের অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থা নেই।

তিনি বলেন, লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীদের সাথে ভর্তিযুদ্ধ করে জবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা চান্স পেয়েছে। কিন্তু টাকার বিনিময়ে সান্ধ্যকালীন শিক্ষার্থীরা ভর্তি হলেও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা তাদের পক্ষে বেশি আন্তরিক।

বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস সংযুক্ত হলে তা শুধু শিক্ষকদের জন্য যুক্ত করার ব্যাপারে জানতে চাইলে জবি ভিসি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন তিনটি বাস কেনার জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছে। আগামী পনেরো দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য ৫২ সিটের নতুন তিনটি বাস যুক্ত হবে পরিবহন পুলে। এতে করে শিক্ষার্থীদের পরিবহন সংকট অনেকটাই লাঘব হবে। এছাড়াও খুব দ্রুত আরো বাস কেনা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার জেসমিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পুরাতন লক্কড়-ঝক্কড় বাস দিয়ে নতুন বাস নেওয়ার আগে শিক্ষকদের একটু ভাবা উচিত ছিল। কারণ আমরা তাঁদেরই সন্তান।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি এম এ মুজাহিদ অনিক বলেন, ‘শিক্ষকরা যে কাজটি করেছেন তা সম্পূর্ণ অনৈতিক। আমাদের দাবি, অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের বাস তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হোক, অন্যথায় আমরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।’



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Somoy-Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis. © All rights reserved  2018 somoytribune.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com